বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ ২০ বছর করার প্রস্তাব, রাজস্ব নিয়ে ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশে লাগবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ৮০০ কোটি রুপির ঘরে ‘জেলার ২’, তামিল সিনেমার সব রেকর্ড ভাঙলেন রজনীকান্ত সিলেট টেস্টে সমতায় ফেরার লড়াই, মুমিনুলের জায়গায় অমিত ব্রেক্সিট-পরবর্তী খাদ্যপণ্যের চেক তুলে দিতে খসড়া চুক্তিতে একমত যুক্তরাজ্য-ইইউ মজুরি আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও বন্ধ প্রায় ৫০০ পোশাক কারখানা জন্মদিনে ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ করলেন শাহরুখ চিকিৎসা খরচে দরিদ্র ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ, আর্থিক কষ্টে ৪১.৭% এইচএসসি-এসএসসি ফলাফল জানার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: অনলাইন চেক, এসএমএস ও পুনর্নিরীক্ষণ পকেটে ফোন রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে বড় গবেষণা

তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ ২০ বছর করার প্রস্তাব, রাজস্ব নিয়ে ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়

মোবাইল অপারেটরদের তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর এবং তিনটি ব্যান্ডের দাম পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বিটিআরসি। এতে সরকারের রাজস্ব কমতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

দেশের তিন মোবাইল অপারেটরের তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দের মেয়াদ ১৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একই সঙ্গে ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের দাম নতুন করে নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত চেয়ে রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের বর্তমান তরঙ্গ নবায়নের সময়সীমা আগামী মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর)।

কোন ব্যান্ডে কত দাম প্রস্তাব

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে প্রতি মেগাহার্টজের দাম ২৬৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩১৬ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। ১৮০০ মেগাহার্টজে দাম ২৬৩ কোটি থেকে সামান্য বেড়ে ২৬৪ কোটি টাকা হতে পারে। অন্যদিকে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে দাম প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা থেকে কমে ২২৯ কোটি টাকায় নামতে পারে। এসব দামের সঙ্গে আয়কর ও ভ্যাট যুক্ত হবে না।

তবে মেয়াদ বাড়ানো ও দাম সমন্বয়ের ফলে সামগ্রিকভাবে নবায়ন ব্যয় কমবে। প্রথম আলোর হিসাবে, বর্তমান দরে তিন অপারেটরের মোট ৭৯.২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নবায়নে খরচ হতো প্রায় ১৬ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। বিটিআরসির প্রস্তাবে তা নেমে আসে প্রায় ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়।

কিস্তি ১০ থেকে বেড়ে ১২টি

এতদিন অপারেটররা সর্বোচ্চ ১০ কিস্তিতে তরঙ্গের দাম পরিশোধ করতে পারত। নতুন প্রস্তাবে ২০ বছরে ১২টি সমান কিস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। নবায়নের নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তি এবং পরের ১৮০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি দিতে হবে। বাকি ১০টি কিস্তি দেওয়া যাবে বার্ষিক ভিত্তিতে। কিস্তি দেরিতে দিলে বছরে ১৫ শতাংশ বিলম্ব মাশুল গুনতে হবে। মেয়াদ বাড়লে মোট আর্থিক চাপও বাড়ে—এ যুক্তিতে অপারেটরদের নগদ প্রবাহ সহজ রাখতে কিস্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বর্তমান বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রামীণফোনের হাতে ৩২.৪ মেগাহার্টজ, বাংলালিংকের ২৪.৪ মেগাহার্টজ এবং রবির ২২.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে, যা এবার নবায়নের আওতায় পড়ছে।

রাজস্ব ও গ্রাহকসেবার প্রশ্ন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তরঙ্গ বরাদ্দ সরকারের বড় রাজস্ব উৎস এবং প্রস্তাবিত কাঠামোয় এ আয় কমে যেতে পারে। কেন এই দামে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মোবাইল সেবার মান ও সাশ্রয়ী মূল্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য টেলিযোগাযোগ বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও বিটিআরসির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও দাম আরও কমানোর দাবি করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশের অপারেটররা আয়ের ১৫.৭ শতাংশ তরঙ্গে ব্যয় করে, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৭.৭ শতাংশ। তাদের যুক্তি, তরঙ্গের খরচ কমলে নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দাম কমানোর সঙ্গে সেবার মান নিশ্চিতে কঠোর শর্তও জুড়ে দেওয়া উচিত।

প্রেক্ষাপট

তরঙ্গ রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যা বিটিআরসি ব্যবস্থাপনা করে। ২জি, ৩জি, ৪জি ও ৫জি সেবা দিতে অপারেটরদের নির্দিষ্ট ব্যান্ড ব্যবহারের জন্য ফি দিতে হয়। দেশে বর্তমানে ১৯ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছেন। অপারেটরদের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০৩৯ সালের মার্চ পর্যন্ত হওয়ায় এর বাইরে তরঙ্গ বরাদ্দের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দামের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।