পাবনায় বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাত, শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু
পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বিলের একটি টংঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা।
পাবনা সদর উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন; কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আহতের সংখ্যা তিন বলা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
টংঘরে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা হয়নি
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দিনভর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সোনাপাতিল বিলে মাছ ধরতে যান। বিকেলে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে আটজনের মতো মানুষ বিলের মধ্যে থাকা একটি অস্থায়ী টংঘরে আশ্রয় নেন। পলিথিনে ছাওয়া ওই ঘরের ওপরেই বজ্রপাত হয়।
বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহতরা বেশ কিছু সময় ওই ঘরেই পড়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে সন্ধ্যার দিকে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে কিশোর ও তরুণেরা রয়েছেন বলে স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
ওসি তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগছে; খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর কথা জানিয়ে বলেছেন, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবুও ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে; নিহত ও আহতদের স্বজনেরা ভিড় করছেন।
বজ্রপাত: নিরাপদ থাকতে যা মনে রাখবেন
বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়, যাঁদের বড় অংশই মাঠে কাজ করা কৃষক, জেলে ও খোলা জায়গায় থাকা মানুষ। প্রাণহানি বাড়তে থাকায় ২০১৬ সালে সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। সাধারণত বর্ষার আগে-পরে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকলেও অক্টোবরের শেষেও এমন ঘটনা ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আকাশে মেঘ ও বজ্রধ্বনি শুরু হলে খোলা মাঠ, বিল বা জলাশয় দ্রুত ছেড়ে পাকা ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। খোলা জায়গার একক গাছ, টিন বা পলিথিনের অস্থায়ী ছাউনি এবং পানির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। আশ্রয় না পেলে নিচু হয়ে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে বসে কান ঢেকে রাখা এবং একসঙ্গে অনেকে জড়ো না হয়ে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, কালের কণ্ঠ, নাগরিক, আজকের বাংলাদেশ, আউটলুক বাংলা

মন্তব্য (০)