ভক্তদের ভোটে সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর রোনালদোর ২০০৮ মৌসুম
ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত ভক্তদের ভোটে ‘বোট’ বা সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর নির্বাচিত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম। দ্বিতীয় হয়েছে লিওনেল মেসির ২০১২ সাল।
ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ভক্তদের ভোটে ‘বোট’ (বি.ও.এ.টি—ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম) বা সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সাল। ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের এই উদ্যোগের ফল জানানো হয় বুধবার (২৮ অক্টোবর)। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কাটানো সেই স্বর্ণালি মৌসুমের পেছনে দ্বিতীয় স্থানে আছে লিওনেল মেসির ২০১২ সাল, আর তৃতীয় হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর ২০১৭ মৌসুম।
যেভাবে হয়েছে ভোটাভুটি
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কেবল একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জয়ী খেলোয়াড়দের প্রতিটি পুরস্কারজয়ী মৌসুমকে। ১ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলা অনলাইন ভোটে অংশ নিতে প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো করে দিতে হয়েছে, আর একজন ভক্ত একাধিকবার ভোট দিতে পারতেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, পাঁচ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। ভোটদাতাদের জন্য ২০২৭ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিও রাখা হয়েছিল।
তবে মোট কত ভোট পড়েছে বা কে কত শতাংশ ভোট পেয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত তালিকার শীর্ষ দিকের প্রায় সব জায়গাই দখল করে আছে রোনালদো ও মেসির বিভিন্ন মৌসুম। শীর্ষ পাঁচে চতুর্থ স্থানে মেসির ২০২৩ এবং পঞ্চম স্থানে রোনালদোর ২০১৬ সালের মৌসুম রয়েছে।
কেন বিশেষ ২০০৮ মৌসুম
২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বৈত শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। লিগে ৩১ গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোল ছিল ৪২টি, যা তাঁকে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু-ও এনে দেয়। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১ ম্যাচে করেছিলেন ৮ গোল। মস্কোয় চেলসির বিপক্ষে ইংলিশ দুই ক্লাবের প্রথম ফাইনালেও গোল করেছিলেন তিনি।
সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতে মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো। ভোটে তখন তিনি পেছনে ফেলেছিলেন মেসি ও ফার্নান্দো তোরেসকে। পরে আরও চারবার এই পুরস্কার জিতে মোট পাঁচটি ব্যালন ডি’অর নিজের করে নেন তিনি।
আনুষ্ঠানিক ট্রফি নয়, প্রতীকী স্বীকৃতি
উল্লেখ্য, ‘বোট’ কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি’অর নয়। এর জন্য কোনো ট্রফিও দেওয়া হচ্ছে না, এবং এটি ১৯৮৯ সালে একবারই দেওয়া ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’-এর মতো সম্মাননাও নয়। সাংবাদিকদের বদলে পুরোপুরি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া ভক্তদের ভোটে ফল নির্ধারিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনাও চলছে। সমালোচকদের মতে, একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় বড় সমর্থকগোষ্ঠী থাকা তারকারা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে ছিলেন।
রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি’অর জেতা মেসির ২০১২ সালের মৌসুমও কম ঐতিহাসিক ছিল না। সে বছর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৯১ গোল করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবু ভক্তদের এই ভোটে শেষ হাসি হাসলেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেলা ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য এটি ক্যারিয়ারের আরেকটি প্রতীকী অর্জন হয়ে থাকল। আনুষ্ঠানিক মূল্য না থাকলেও ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, দুই দশক পরও রোনালদো-মেসির দ্বৈরথ ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড, গোল ডটকম, গালফ নিউজ





মন্তব্য (০)