আনকাট ছাড়পত্র পেল দেশের প্রথম এআই চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’, মুক্তি শনিবার
পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নির্মিত বলে দাবি করা চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’ কোনো কাটছাঁট ছাড়াই স্বল্পদৈর্ঘ্য শাখায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইউটিউবে এর প্রিমিয়ার হবে।
সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে নির্মিত দেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে প্রচার পাওয়া ‘গ্যাপ’ মুক্তির ছাড়পত্র পেয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড স্বল্পদৈর্ঘ্য শাখায় ছবিটিকে কোনো দৃশ্য কাটছাঁট ছাড়াই, অর্থাৎ ‘আনকাট’ ছাড়পত্র দিয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, শনিবার (৩১ অক্টোবর) একটি ইউটিউব চ্যানেলে ছবিটির প্রিমিয়ার হবে।
‘গ্যাপ’ পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ, প্রযোজনা করেছেন আকবর হায়দার মুন্না। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ছাড়পত্র পাওয়ার খবর গণমাধ্যমকে জানায় নির্মাতা দল।
নির্মাণের বড় অংশেই এআই
নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি, চরিত্র নির্মাণ, অ্যানিমেশন, আবহসংগীত এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের বড় অংশ করা হয়েছে বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে। পরিচালক জানিয়েছেন, কাজে আন্তর্জাতিক মানের এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে এবং তুলনামূলক কম বাজেট ও ছোট একটি দল নিয়েই পুরো কাজ শেষ করা হয়েছে।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর হলেও ছবিতে মানুষের অংশগ্রহণ একেবারে নেই, তা নয়। বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করেছেন এআই ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আর্ক শিহাব, পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ নিজে, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি ও জাহাঙ্গীর আলম। ছবির গল্প বা দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নির্মাতারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পরিচালকের প্রতিক্রিয়া
ছাড়পত্র পাওয়াকে বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তাঁর মতে, ছবিটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বাংলা সিনেমার জন্য ‘একটি সাহসী পরীক্ষা’। তিনি বলেন, কাটছাঁট ছাড়াই অনুমোদন পাওয়া দেখিয়েছে যে প্রযুক্তি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এমন কনটেন্টও দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে।
আগে ইউটিউব, পরে প্রেক্ষাগৃহ
নির্মাতারা জানিয়েছেন, শনিবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘গ্যাপ’-এর প্রিমিয়ার হবে। এরপর শিগগিরই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রেক্ষাপট: চলচ্চিত্রে এআইয়ের বাড়তি ব্যবহার
বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপননির্মাণে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেশী ভারতেও এআই-নির্ভর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশেও কয়েকজন তরুণ নির্মাতা এআই দিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নজর কেড়েছেন। এ প্রযুক্তি নির্মাণ খরচ ও সময় কমালেও শিল্পীদের কাজের সুযোগ, মেধাস্বত্ব এবং সৃজনশীলতার প্রশ্নে বিতর্কও চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া ‘গ্যাপ’ দেশের চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশে প্রেক্ষাগৃহে বা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্রকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। ২০২৩ সালের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের মাধ্যমে আগের সেন্সর বোর্ডের জায়গায় এই বোর্ড গঠিত হয়।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, রূপালী বাংলাদেশ, প্রিয়দেশ, জাগো নিউজ




মন্তব্য (০)