সিলেট টেস্টে সমতায় ফেরার লড়াই, মুমিনুলের জায়গায় অমিত
মাথায় আঘাতজনিত বাধ্যতামূলক বিশ্রামের কারণে সিলেট টেস্টে খেলতে পারছেন না মুমিনুল হক। তাঁর বদলে ডাক পাওয়া অমিত হাসান বলছেন, সুযোগ পেলে নিজের চেনা প্রক্রিয়াতেই খেলবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হককে পাচ্ছে না স্বাগতিকেরা। মিরপুর টেস্টে মাথায় আঘাত পাওয়ায় আইসিসির কনকাশন নীতিমালা অনুযায়ী তাঁকে বাধ্যতামূলক বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। তাঁর জায়গায় স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে উইকেটকিপার-ব্যাটার অমিত হাসানকে।
কেন ছিটকে গেলেন মুমিনুল
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পান মুমিনুল। পরে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জাকের আলী। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কনকাশনে আক্রান্ত খেলোয়াড়কে অন্তত সাত দিন খেলার বাইরে থাকতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক বিশ্রামের মেয়াদের জন্য মুমিনুল দ্বিতীয় টেস্টে অনুপলব্ধ। তাঁর বদলে ১৫ সদস্যের দলে যুক্ত হয়েছেন অমিত।
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও। স্কোয়াডে আরও আছেন সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনসহ অন্যরা।
নিজের প্রক্রিয়ায় আস্থা অমিতের
চব্বিশ বছর বয়সী অমিত চলতি বছরের জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করেন। সেই ম্যাচে তিনি সাত নম্বরে ব্যাট করেছিলেন, যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাধারণত চার নম্বরে খেলেন। আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, লাল বলের ৫৪ ম্যাচে ৫০.৫০ গড়ে তাঁর রান ৪ হাজার ৪০। মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বর পজিশনে তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিলেটে অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অমিত। তিনি জানান, সুযোগ পেলে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে খেলে আসছেন, সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবেন। ব্যাটিং পজিশন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, টিম ম্যানেজমেন্ট যেভাবে চাইবে, সেভাবেই খেলতে চান।
মিরপুরে যেভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ
প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ১৪২ রানে; ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ ৩৬ রানে নেন ৫ উইকেট। নাঈম হাসানের ৫২ রানই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ ও জন ক্যাম্পবেলের ৪৯ রানের সুবাদে সহজ জয় পায় সফরকারীরা। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় হন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান।
এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট তালিকায় চার থেকে পাঁচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ফলে সিলেট টেস্ট শুধু সিরিজ বাঁচানোর নয়, টেবিলে অবস্থান ফিরে পাওয়ারও লড়াই। সিরিজ হার এড়াতে হলে স্বাগতিকদের এই ম্যাচ জিততেই হবে, আর ড্র হলেও ১-০ ব্যবধানে সিরিজ যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরে।
তথ্যসূত্র: আইসিসি, আল জাজিরা, টিওবি নিউজ, বিডিক্রিকটাইম

মন্তব্য (০)