শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
যুগান্তরশত শত হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের ভিড়ে জরুরি বার্তা খুঁজবেন যেভাবে যুগান্তরকারিগরি শিক্ষার ভিত শক্ত করতে কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ জরুরি প্রতিদিনের বাংলাদেশনিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের চোখের সুস্থতায় ভিশনস্প্রিং জরুরি বিডি২৪লাইভভাইরাল স্কিনকেয়ারের ফাঁদে জেন জি? ত্বকের যত্নে জরুরি বিষয়

নভেম্বর থেকে টিসিবিতে মিলবে প্যাকেটজাত হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা

ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আয় বাড়াতে নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া এবং চা বিক্রি শুরু করছে টিসিবি। ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নভেম্বর মাস থেকে প্যাকেটজাত হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে। পণ্যের পরিসর বাড়ানো, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া বক্তব্যে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এ পরিকল্পনার কথা জানান।

যেসব পণ্য আসছে

টিসিবি চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া নভেম্বরেই বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। চা বিক্রির অনুমোদনও মিলেছে, একই সময়ে সেটি চালুর লক্ষ্যে কাজ এগোচ্ছে। এর আগে কাপড় কাচা সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি। এসব পণ্য বাজারদরের চেয়ে কম দামে, তবে ক্রয়মূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশিতে বিক্রি হওয়ায় সামান্য মুনাফা থাকছে।

ভবিষ্যতে আটা যুক্ত করার কথাও ভাবছে টিসিবি। অন্য কোন কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা যাচাইয়ে বাজার জরিপ চলছে। পাশাপাশি স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণের বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি বিক্রির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে এবং আগ্রহী ডিলারদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

দাম বাজারের চেয়ে কম, ভর্তুকি পণ্যে পরিবর্তন নেই

নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে এগুলো কেনা বা না কেনা পুরোপুরি ক্রেতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি হওয়া বিদ্যমান পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিয়মিত বাজার টিসিবি থেকে করলে একজন ক্রেতা বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে এবং আগামী অর্থবছরে এক কোটিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ফয়সল আজাদের প্রাক্কলন, এক কোটি গ্রাহকের কাছে বাড়তি পণ্য পৌঁছানো গেলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা আসতে পারে। তবে প্রকৃত ফল বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

খরচ কমানোর উদ্যোগ

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, আয়ও বাড়াতে হবে। এ জন্য খরচ সাশ্রয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকঋণের বদলে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনা হচ্ছে, তুলনামূলক কম সুদের ব্যাংকিং সেবা নেওয়া হচ্ছে এবং এপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিক্রির টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহন ও ওঠানামার খরচ কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রেক্ষাপট

নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া টিসিবির প্রধান কাজ। এ কার্যক্রম চালাতে প্রতিবছর সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। সংস্থাটি আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে এবং ধাপে ধাপে পণ্য বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। সাবান, ডিটারজেন্টসহ বাড়তি পণ্যগুলো চালু হয়েছে প্রায় চার মাস আগে।

পেঁয়াজ ও আলু প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, এসব পণ্য সারা বছর কেনা হয় না; বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা হয়। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পেঁয়াজ কেনা হলেও বর্তমানে সংকট না থাকায় আপাতত তা কেনার পরিকল্পনা নেই।

তথ্যসূত্র: বাসস, বাংলা ট্রিবিউন, চ্যানেল আই অনলাইন, নিউ এইজ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।