প্রথম টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো আনল অ্যাপল, দাম ২৮৯৯ ডলার থেকে
প্রথমবারের মতো স্পর্শনির্ভর পর্দার ‘প্রোলেড এক্সডিআর’ ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করেছে অ্যাপল। ১৪ ইঞ্চি মডেলের দাম শুরু ২ হাজার ৮৯৯ ডলার থেকে; বিক্রি শুরু ৬ নভেম্বর।
বহু বছরের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রথমবারের মতো স্পর্শনির্ভর পর্দার ম্যাক ল্যাপটপ বাজারে আনছে অ্যাপল। বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এক আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি ‘প্রোলেড এক্সডিআর’ ডিসপ্লেযুক্ত নতুন ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করে। ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি—দুই আকারে আসা ল্যাপটপটির দাম শুরু হচ্ছে ২ হাজার ৮৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে আগাম ফরমাশ নেওয়া শুরু হয়েছে, আর ৬ নভেম্বর থেকে এটি বিক্রি শুরু হবে।
প্রোলেড এক্সডিআর পর্দায় কী আছে
অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন পর্দাটি ‘ট্যানডেম ওএলইডি’ প্রযুক্তিতে তৈরি। এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ২ হাজার নিট, যা এইচডিআর ও সাধারণ (এসডিআর) দুই ধরনের কনটেন্টেই পাওয়া যাবে। কনট্রাস্ট অনুপাত ধরা হয়েছে ১ কোটি:১। প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান জনি স্রুজি একে ‘বিশ্বের সেরা ল্যাপটপ ডিসপ্লে’ বলে দাবি করেছেন।
স্পর্শ করার সময় পর্দা যাতে দুলে না যায়, সে জন্য নতুন ধরনের কবজা (হিঞ্জ) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, এই কবজা ভিডিও কলের সময় পর্দা ছুঁলেও ক্যামেরাকে স্থির রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি পর্দার ওপরের ‘নচ’ সরিয়ে আইফোনের মতো ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ ধাঁচের কাটআউট যোগ করা হয়েছে।
চিপ, ওজন ও অন্যান্য সুবিধা
নতুন ম্যাকবুক প্রোতে এম৫ প্রো অথবা এম৫ ম্যাক্স চিপ বেছে নেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ১২৮ গিগাবাইট ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ১৬ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ রাখা যাবে। ১৪ ইঞ্চি মডেলের ওজন প্রায় ১ দশমিক ৩৮ কেজি এবং ১৬ ইঞ্চির ওজন প্রায় ১ দশমিক ৮২ কেজি, যা আগের স্পর্শবিহীন মডেলের চেয়ে হালকা।
সংযোগের জন্য রয়েছে তিনটি থান্ডারবোল্ট ৫ পোর্ট, এইচডিএমআই, এসডিএক্সসি কার্ড স্লট, ম্যাগসেফ চার্জিং ও হেডফোন জ্যাক। শব্দের জন্য যুক্ত হয়েছে নতুন নকশার উফারসহ ছয় স্পিকারের ব্যবস্থা। এম৫ প্রো চিপের মডেলে তিনটি এবং এম৫ ম্যাক্স মডেলে চারটি পর্যন্ত বাড়তি মনিটর যুক্ত করা যাবে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের পর আবারও ল্যাপটপের পেছনে আলো জ্বলা অ্যাপল লোগো ফিরিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দাম ও প্রাপ্যতা
যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ ইঞ্চির এম৫ প্রো মডেলের দাম শুরু ২ হাজার ৮৯৯ ডলার থেকে। ১৬ ইঞ্চি এবং এম৫ ম্যাক্স চিপের সংস্করণগুলোর দাম এর চেয়ে বেশি; কনফিগারেশনভেদে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কবে ও কত দামে ল্যাপটপটি পাওয়া যাবে, তা এখনো জানা যায়নি।
কেন এটি বড় পরিবর্তন
দীর্ঘদিন ধরে ম্যাকে টাচস্ক্রিন না আনার পক্ষে ছিল অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ২০১০ সালে খাড়া পর্দায় স্পর্শের ধারণাকে ‘আর্গোনমিকভাবে ভয়াবহ’ বলেছিলেন। এর আগে ম্যাকবুক প্রোতে কিবোর্ডের ওপর ছোট স্পর্শকাতর ‘টাচ বার’ যোগ করলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। অথচ উইন্ডোজচালিত বহু ল্যাপটপে বহু বছর ধরেই টাচস্ক্রিন সুবিধা রয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক ডেভিড নারাঞ্জো দ্য ন্যাশনালকে বলেছেন, অ্যাপলের এই পদক্ষেপ প্রিমিয়াম ল্যাপটপে ওএলইডি পর্দার জন্য ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হতে পারে। তবে স্পর্শের সময় পর্দায় আঙুলের ছাপ পড়া এবং দীর্ঘক্ষণ হাত তুলে কাজ করার ক্লান্তি নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলোও আবার আলোচনায় এসেছে।
তথ্যসূত্র: টেকক্রাঞ্চ, দ্য ন্যাশনাল, মোবাইলসিরাপ, গালফ নিউজ


মন্তব্য (০)