রেমিট্যান্স: নভেম্বরের ৭ দিনে এল ৮৭.৯ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২২.৭%
নভেম্বরের প্রথম ৭ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, আগের বছরের চেয়ে ২২.৭% বেশি। অর্থবছরে মোট কত, রিজার্ভে প্রভাব কী—বিস্তারিত।

ঢাকা, ৮ নভেম্বর ২০২৬: চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম সাত দিনে (১–৭ নভেম্বর) বৈধ পথে দেশে ৮৭ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান।
সপ্তাহের হিসাব: দিনে গড়ে সাড়ে ১২ কোটি ডলার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শেষ তিন দিনে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার, ৫–৭ নভেম্বর) এসেছে ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, টাকার অঙ্কে প্রায় ২ হাজার ৮৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মাসের প্রথম চার দিনেই এসেছিল প্রায় ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার—যা প্রায় গত বছরের পুরো প্রথম সপ্তাহের সমান।
সাত দিনের মোট অঙ্ক ভাগ করলে দৈনিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। গত বছর একই সময়ে এই গড় ছিল প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার। মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান, তাই প্রথম সপ্তাহের প্রবাহ মাসের অন্য সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকাই স্বাভাবিক।
চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়
২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু (১ জুলাই) থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। নিচের টেবিলে মাসওয়ারি চিত্র:
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (ডলার) | আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি |
|---|---|---|
| জুলাই ২০২৬ | ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ | ১৫.৪% |
| আগস্ট ২০২৬ | ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ | ২২.৫% |
| সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ | ৩% |
| অক্টোবর ২০২৬ | ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ | ১২.১% |
| ১–৭ নভেম্বর ২০২৬ | ৮৭ কোটি ৯০ লাখ | ২২.৭% |
| ১ জুলাই–৭ নভেম্বর (মোট) | ১,২৩৪ কোটি ৪০ লাখ | ১৩.৬% |
টেবিল থেকে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। অক্টোবরে তা আবার দুই অঙ্কে ফেরে, আর নভেম্বরের শুরুতে গতি আরও বেড়েছে।
রিজার্ভে স্বস্তি ফেরাতে কতটা ভূমিকা
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি এমন সময়ে এল, যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে রয়েছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের প্রায় ১৬৪ কোটি ডলারের আমদানি বিল শোধের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ নেমে আসে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। গ্রস বা মোট হিসাবে তা ছিল ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে স্থিতিশীল উৎসগুলোর একটি, কারণ এর বিপরীতে কোনো আমদানি দায় বা ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের এই প্রবাহ রিজার্ভকে আবার ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি ও রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের ঋণপত্র খোলার চাপ বাড়লে সেই সুফল কিছুটা কমে যেতে পারে।
বিশ্লেষণ: প্রবৃদ্ধির পেছনে কী
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। প্রথমত, ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলাবাজারে ডলারের দামের ব্যবধান যত কম থাকে, হুন্ডির আকর্ষণ তত কমে। দ্বিতীয়ত, সরকারি প্রণোদনা এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত টাকা পৌঁছানোর সুবিধা প্রবাসীদের বৈধ পথে উৎসাহিত করছে। তৃতীয়ত, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ধারাবাহিকতা প্রবাসী আয়ের ভিত্তি বড় করছে।
তবে মাত্র এক সপ্তাহের তথ্য দিয়ে পুরো মাসের প্রবণতা নিশ্চিত বলা কঠিন। মাসের শেষ দিকে প্রবাহ সাধারণত কিছুটা কমে আসে। তাই নভেম্বর শেষে প্রবৃদ্ধি কোথায় দাঁড়ায়, তা দেখতে মাসের বাকি তিন সপ্তাহের তথ্যের দিকে নজর রাখতে হবে।
প্রবাসী ও পরিবারের জন্য প্রশ্নোত্তর
বৈধ পথে টাকা পাঠালে কী সুবিধা?
ব্যাংক, অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউস বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঠানো অর্থে সরকারি প্রণোদনা মেলে, লেনদেনের প্রমাণ থাকে এবং অর্থ সরাসরি দেশের রিজার্ভে যুক্ত হয়। হুন্ডিতে পাঠানো টাকা আইনি ঝুঁকি তৈরি করে এবং রিজার্ভে কোনো ভূমিকা রাখে না।
টাকায় কত পাওয়া যাবে, তা কীভাবে জানব?
পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের ঘোষিত দিনের বিনিময় হার এবং প্রণোদনার হার মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হার ও মাশুলে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
রেমিট্যান্সের হালনাগাদ তথ্য কোথায় পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক প্রবাসী আয়ের তথ্য প্রকাশ করে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এসব পরিসংখ্যান পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এনটিভি অনলাইন, বাসস।




মন্তব্য (০)