শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
সমকাল‘টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি’ ভোরের কাগজজরুরি চিকিৎসার অজুহাতে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে যা করলেন অভিনেত্রী বিডি২৪লাইভজরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে অভিনেত্রীর কাণ্ড প্রথম আলোজেন্ডার বাজেটের প্রকৃত বাস্তবায়ন জরুরি যুগান্তরজরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে বাসায় ডেকে অভিনেত্রীর কাণ্ড ইনকিলাবপর্ব ১: সন্তানের পড়াশোনায় শুধু স্কুল নয়, অভিভাবকের নজরদারিও কেন জরুরি?

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ: প্রায় দুই দশক পর ফিরল সাধারণ ছুটি

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। প্রায় দুই দশক পর ফিরেছে সাধারণ ছুটি; ব্যাংক বন্ধ, এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি। জানুন ইতিহাস ও কর্মসূচি।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্স
প্রতীকী ছবি: শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্স। ছবি: Kazal1968 / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬: আজ শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দীর্ঘ বিরতির পর এবার দিনটি আবার সাধারণ ছুটি হিসেবে পালিত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, তফসিলি ব্যাংক ও পোশাক কারখানা আজ বন্ধ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সরকারি পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে, ফলে এখন থেকে প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে সরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে।

ছুটি ফিরল কীভাবে: সিদ্ধান্ত থেকে প্রজ্ঞাপন

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে দিবসটি আগের রূপে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে প্রতিবছরের সাধারণ ছুটি এবং ‘ক’ শ্রেণির দিবস হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০০৮ সালের ছুটির তালিকা থেকে দিনটি বাদ দেয়। পরের আওয়ামী লীগ সরকার এবং ২০২৪ সালের পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও দিবসটিকে জাতীয় দিবসের তালিকায় রাখেনি। ফলে প্রায় দুই দশক পর দিনটিতে আবার রাষ্ট্রীয় ছুটি মিলল।

পটভূমি: ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের সেই দিনগুলো

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা-অভ্যুত্থান ঘটে। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে তখনকার সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। চার দিন পর, ৭ নভেম্বর, কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার উদ্যোগে সিপাহি ও সাধারণ মানুষের অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। এরপর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন।

দিনটির ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাসদ বলে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’, আর আওয়ামী লীগ দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ইতিহাসের এই ভিন্ন পাঠ এখনো দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।

এক নজরে আজকের কর্মসূচি ও সুবিধা

বিষয়বিস্তারিত
ছুটিসারা দেশে সাধারণ ছুটি; তফসিলি ব্যাংক ও পোশাক কারখানাও বন্ধ
জাতীয় পতাকাসূর্যোদয়ে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব যানবাহনের জন্য টোল মওকুফ
শিশু পার্কসিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পার্কে বিনা টিকিটে প্রবেশ
ধর্মীয় আয়োজনমসজিদে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত; অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা
হাসপাতাল ও এতিমখানাউন্নতমানের খাবার পরিবেশন
সশস্ত্র বাহিনীপতাকা উত্তোলন, মিলাদ; ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে ক্যাডেট কোরের ডিসপ্লে

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন রয়েছে। সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী, দলীয় কর্মসূচি

দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে দেশের গতিপথ নির্ধারণী মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিএনপি সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে। নয়াপল্টন থেকে দলের শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলা ও মহানগর পর্যায়েও শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ দলটির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি রয়েছে।

বিশ্লেষণ: কেন এই ছুটি আলোচনায়

বাংলাদেশে জাতীয় দিবস ও ছুটির তালিকা বরাবরই ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলেছে। ৭ নভেম্বরের ছুটি বাতিল, পরে বিভিন্ন সরকারের আমলে দিবসটির নাম ও মর্যাদা নিয়ে টানাপোড়েন—সবই এর উদাহরণ। এবার ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পাওয়ায় দিবসটি এখন সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে পালিত হবে। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, ঐতিহাসিক ঘটনার মূল্যায়নে সর্বদলীয় ঐকমত্য না থাকলে এ ধরনের দিবস ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এবার দিনটি শনিবার পড়ায় সরকারি অফিস ও ব্যাংকে এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি ছিল; তবে শনিবার চালু থাকা পোশাক কারখানাসহ বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আজ বাড়তি ছুটি মিলেছে। ভবিষ্যতে দিনটি কর্মদিবসে পড়লে ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও রপ্তানিমুখী কারখানার সূচিতে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

পাঠকের প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: আজ কি ব্যাংক খোলা?
উত্তর: না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংক বন্ধ। জরুরি লেনদেনে এটিএম ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারেন।

প্রশ্ন: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কখন টোল লাগবে না?
উত্তর: আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী।

প্রশ্ন: এই ছুটি কি প্রতিবছর থাকবে?
উত্তর: হ্যাঁ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি থাকবে।

প্রশ্ন: শোভাযাত্রার কারণে কোন এলাকায় যানজট হতে পারে?
উত্তর: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এলাকায় দিনের প্রথম ভাগে চাপ থাকতে পারে; বিকল্প পথ বিবেচনা করুন।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বাসস, দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ২৪, এনটিভি, ঢাকা টাইমস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।