বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
জাগো নিউজ ২৪স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত ও জরুরি চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ আজকের পত্রিকাসুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি প্রতিদিনের বাংলাদেশবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলা ট্রিবিউনযুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, জরুরি অবস্থা জারি যুগান্তরস্ট্রোক কী, কেন হয়? দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি যে কারণে দেশ রূপান্তরদাঁতের হলুদ ভাব দূর করতে যেসব অভ্যাস জরুরি জাগো নিউজ ২৪চিকিৎসক নেই জরুরি বিভাগেও, বন্ধ জনগুরুত্বপূর্ণ তিন বিভাগ ঢাকা পোস্টশিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষাও জরুরি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ঢাকা পোস্টখাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা জরুরি ঢাকা পোস্টপর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জরুরি : সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডের দায়ে আবাসনমন্ত্রীর পদত্যাগ, ক্ষমা চাইলেন জন লি

ওয়াং ফুক কোর্টে ১৬৮ জনের প্রাণহানির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি তদারকির ঘাটতি উঠে আসার পর পদত্যাগ করেছেন হংকংয়ের আবাসনমন্ত্রী উইনি হো। নগরবাসীর কাছে মাথা নুইয়ে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান নির্বাহী জন লি।

বাঁশের মাচা ও সবুজ জাল ঘেরা পোড়া দাগযুক্ত উঁচু আবাসিক ভবন, দূরে ধোঁয়ার আবছা আভা
প্রতীকী ছবি ছবি: ClaimBD

হংকংয়ের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সরকারি তদারকির গুরুতর ঘাটতি উঠে এসেছে। এর জেরে রাজনৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন অঞ্চলটির আবাসনমন্ত্রী উইনি হো। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে নগরবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান নির্বাহী জন লি। এ সময় তিনি ও সরকারের আরও সাত শীর্ষ কর্মকর্তা মাথা নুইয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আবাসনমন্ত্রী বুধবার (২৮ অক্টোবর) পদত্যাগ করেন। জন লি বলেছেন, তদন্তে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কোনো অনিয়ম পাওয়া না গেলেও দপ্তরের প্রধান হিসেবে তাঁকে রাজনৈতিক দায় নিতে হবে।

যেভাবে ছড়িয়েছিল আগুন

গত বছরের নভেম্বরে সংস্কারকাজ চলার সময় ওয়াং ফুক কোর্টের সাতটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, গৃহহীন হন কয়েক হাজার বাসিন্দা। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।

তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, একটি ভবনের প্রথম তলার দুটি ফ্ল্যাটের মাঝের খোলা ছাদে জ্বলন্ত সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। নির্মাণশ্রমিকেরা কাজের জায়গায়, এমনকি মাচার ওপরেও ধূমপান করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জানালায় লাগানো ফোম বোর্ড এবং অগ্নিনিরোধী নয় এমন মাচার জাল ও ক্যানভাস আগুন দ্রুত ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। সিঁড়িঘরের কিছু জানালা সরিয়ে কাঠের বোর্ড বসানোয় ধোঁয়া পালানোর পথে ঢুকে পড়ে। ফোম বোর্ডে জানালা ঢাকা থাকায় বাসিন্দারা বাইরের পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি, ফলে সরে যেতে দেরি হয়। অগ্নিসতর্কতা ব্যবস্থা বন্ধ রাখাও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদারকিতে ব্যর্থতা

প্রতিবেদনে সংস্কারকাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও প্রধান ঠিকাদারকে মূল দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিয়ম মানার ক্ষেত্রে শর্টকাট নিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। কিছু নিবন্ধিত পেশাজীবী বাস্তবে কোনো কাজ না করে কেবল অর্থের বিনিময়ে নিজেদের নাম ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে সরকারি সংস্থাগুলোকেও ছাড় দেয়নি তদন্ত কমিটি। আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিট ও বিল্ডিংস ডিপার্টমেন্ট কাজ তদারকির মূল দায়িত্বে থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। পরিদর্শনের আগে ঠিকাদারদের আগাম জানিয়ে দেওয়ার জন্য পরিদর্শন ইউনিটের সমালোচনা করা হয়েছে। একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরও ফোম বোর্ড ও জালের মান যাচাই করা হয়নি। জন লি জানান, ফায়ার সার্ভিসেস ও শ্রম বিভাগেরও তদারকিতে ঘাটতি ছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ

সংশ্লিষ্ট চারটি সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তিন মাসের একটি তদন্ত শুরু হবে। দরপত্রে যোগসাজশকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণাসহ নির্মাণ খাতে একগুচ্ছ সংস্কারের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার।

এর বাইরে আলাদা একটি ফৌজদারি মামলায় সাতজন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩০ কোটি হংকং ডলারের বেশি মূল্যের সংস্কার চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের অতীত মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

প্রেক্ষাপট

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রধান নির্বাহী জন লি একজন বিচারকের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও জবাবদিহি দাবি করে আসছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেই দাবির আংশিক সাড়া মিলল বলে মনে করা হচ্ছে। হংকংয়ে পুরোনো আবাসিক ভবনের সংস্কারকাজে বাঁশের মাচা ও জালের ব্যবহার প্রচলিত, এ ঘটনার পর সেগুলোর নিরাপত্তা মান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যসূত্র: এপি, রয়টার্স, ফ্রান্স ২৪, নিক্কেই এশিয়া, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।