শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
প্রতিদিনের বাংলাদেশনিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের চোখের সুস্থতায় ভিশনস্প্রিং জরুরি বিডি২৪লাইভভাইরাল স্কিনকেয়ারের ফাঁদে জেন জি? ত্বকের যত্নে জরুরি বিষয় আজকের পত্রিকাআজকের রাশিফল: প্রশংসা পাওয়ার চেয়ে পিঠ বাঁচিয়ে চলা আজ জরুরি দেশ রূপান্তরআল্লাহর পরিচয় জানা জরুরি দেশ রূপান্তরসবার আগে জরুরি সাইবার নিরাপত্তা জাগো নিউজ ২৪স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত ও জরুরি চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ আজকের পত্রিকাসুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি প্রতিদিনের বাংলাদেশবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সরকারি বাসায় ভাড়াটিয়া রাখলে বরাদ্দ বাতিল, সময় শনিবার পর্যন্ত

সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতা রাখা বরাদ্দপ্রাপ্তদের শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত সময় দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এরপর কাউকে পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বরাদ্দ বাতিল হবে।

সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে নিজে না থেকে অন্যকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া চাকরিজীবীদের শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এই সময়ের মধ্যে ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতাকে সরিয়ে বরাদ্দপ্রাপককে নিজে বাসায় উঠতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপককে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে না; সরাসরি তাঁর বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

পরিদর্শনে মিলেছে সাবলেটের প্রমাণ

পরিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি পরিদর্শন দল সরকারি আবাসিক এলাকাগুলোর বিভিন্ন বাসা ঘুরে দেখে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে উঠে আসে, কিছু বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁদের বাসার এক বা দুটি কক্ষ, কেউ কেউ পুরো বাসা বা ফ্ল্যাটই অন্যদের কাছে ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন।

পরিদপ্তর বলছে, এ ধরনের কাজ ১৯৮২ সালের সরকারি বাসা বরাদ্দসংক্রান্ত বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরাদ্দ দেওয়া বাসা শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও তাঁর পরিবারের বসবাসের জন্য; এর কোনো অংশ তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দেওয়ার সুযোগ বিধিতে নেই।

বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা

শুধু বরাদ্দ বাতিলেই বিষয়টি শেষ হবে না। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিমালার ১৪(৩) বিধি অনুসারে নিয়ম ভাঙা বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানাবে আবাসন পরিদপ্তর।

অর্থাৎ নির্দেশনা না মানলে একজন কর্মচারী একদিকে বাসা হারাবেন, অন্যদিকে নিজ দপ্তরে বিভাগীয় মামলার মুখেও পড়তে পারেন। এতে চাকরির রেকর্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বরাদ্দপ্রাপ্তদের এখন যা করতে হবে

  • বাসার কোনো অংশ—এক কক্ষ হোক বা পুরো ফ্ল্যাট—অন্য কাউকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া যাবে না।
  • যাঁরা ইতিমধ্যে ভাড়া দিয়েছেন, তাঁদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া সরাতে হবে।
  • বরাদ্দপ্রাপককে নিজে পরিবারসহ বরাদ্দ পাওয়া বাসায় বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেক্ষাপট

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর বাসা ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সরকারি বাসার চাহিদা বরাবরই সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি; বহু কর্মচারী দীর্ঘদিন অপেক্ষার তালিকায় থাকেন। এ অবস্থায় বরাদ্দ পাওয়া বাসা অন্যকে ভাড়া দিয়ে আয় করার অভিযোগ মাঝেমধ্যেই ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত প্রয়োজনে থাকা কর্মচারীদের বাসা পাওয়া নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জরুরি।

সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিদপ্তর আবার পরিদর্শন চালাবে কি না, কিংবা কতজন বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, চ্যানেল আই অনলাইন, দৈনিক ইত্তেফাক, যমুনা টেলিভিশন

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।