নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা, মিলবে না ইনক্রিমেন্ট
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে, তবে চুক্তির মেয়াদে ইনক্রিমেন্ট বা আনুতোষিক মিলবে না।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখন থেকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশ্যে আসে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন এ ব্যবস্থা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে চুক্তির মেয়াদে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন পাওয়া যাবে না।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বেসামরিক পদে যাঁরা জনস্বার্থে চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাঁদের সবার ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
পুরোনো চুক্তিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন কীভাবে
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর অধীনে যাঁরা আগে চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন এবং যাঁদের চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাই ২০২৬-এর পরও বহাল আছে, তাঁদের বেতন নতুন স্কেলের সমতুল্য গ্রেড ও ধাপে নির্ধারিত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র সংশোধন করতে হবে। নতুন হারে বেতনের পাশাপাশি তাঁরা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০২৬ অনুযায়ী বর্ধিত সুবিধা এবং চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ভাতাও পাবেন।
অবসরপ্রাপ্তদের নতুন চুক্তিতে যে নিয়ম
১ জুলাই ২০২৬ বা এর পরে যাঁরা চুক্তিতে নিয়োগ পাচ্ছেন, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, তাঁদের বেতন ধরা হবে অবসরে যাওয়ার ঠিক আগে তাঁরা যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন পেতেন, নতুন স্কেলের সেই গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী। যোগদানের দিন থেকেই এ বেতন প্রযোজ্য হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন ঠিক করে দিলে, অথবা চুক্তিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়ে কোনো অঙ্ক নির্ধারণ করলে, সেটিই চুক্তিভিত্তিক বেতন হিসেবে গণ্য হবে।
পেনশনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সমর্পণের আগে যে মোট পেনশন পেতেন, সেটি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন চুক্তিভিত্তিক বেতন থেকে কাটা হবে না।
অবসরপ্রাপ্ত নন, এমনদের ক্ষেত্রে
সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেননি, এমন ব্যক্তিদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে তাঁদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ সমন্বয় করে ঠিক করবে। প্রার্থীর যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে এসব শর্ত চুক্তিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাতিল হলো ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন
নতুন নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ ও স্মারক নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগের জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও রয়েছে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে। ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা নিয়ে সরকারের কোনো আদেশ এলে তা-ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ঘোষণা করেছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। বর্তমানে সরকারি খাতে ঠিক কতজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী কাজ করছেন, তার হালনাগাদ হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে ‘সরকারি কর্মচারী পরিসংখ্যান ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্মানীভিত্তিক, নির্ধারিত বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে এমন কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯৮০ জন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, এশিয়ান টিভি



মন্তব্য (০)