বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ ২০ বছর করার প্রস্তাব, রাজস্ব নিয়ে ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশে লাগবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ৮০০ কোটি রুপির ঘরে ‘জেলার ২’, তামিল সিনেমার সব রেকর্ড ভাঙলেন রজনীকান্ত সিলেট টেস্টে সমতায় ফেরার লড়াই, মুমিনুলের জায়গায় অমিত ব্রেক্সিট-পরবর্তী খাদ্যপণ্যের চেক তুলে দিতে খসড়া চুক্তিতে একমত যুক্তরাজ্য-ইইউ মজুরি আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও বন্ধ প্রায় ৫০০ পোশাক কারখানা জন্মদিনে ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ করলেন শাহরুখ চিকিৎসা খরচে দরিদ্র ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ, আর্থিক কষ্টে ৪১.৭% এইচএসসি-এসএসসি ফলাফল জানার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: অনলাইন চেক, এসএমএস ও পুনর্নিরীক্ষণ পকেটে ফোন রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে বড় গবেষণা

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশে লাগবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ হারে প্রিফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হবে না। লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রিফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু, লভ্যাংশ পরিশোধ এবং মূলধন প্রত্যাবাসনের নিয়ম সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়মে উৎপাদন ও সেবা খাতের দেশীয় কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ লভ্যাংশ হারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রিফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে পারবে, এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমোদন লাগবে না। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।

কী বলা হয়েছে সার্কুলারে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (এফইআইডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে প্রিফারেন্স শেয়ার ইস্যু, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর, শেয়ার অবসায়ন (রিডেম্পশন), লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন এবং এসব লেনদেনে কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোম্পানি ৫ শতাংশের বেশি হারে লভ্যাংশ দিতে চাইলে যৌক্তিকতা দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

শর্ত অনুযায়ী, কেবল আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনা বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতেই এসব শেয়ার ইস্যু করা যাবে। শেয়ার ইস্যু করতে হবে অভিহিত মূল্যে, ফলে ইস্যু বা অবসায়নের সময় কোম্পানির আলাদা মূল্যায়নের প্রয়োজন পড়বে না। তবে প্রিফারেন্স শেয়ার সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা হলে বিদ্যমান নিয়ম মেনে সাধারণ শেয়ারের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য ও অবসায়ন-অযোগ্য প্রিফারেন্স শেয়ারকে ইক্যুইটি মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিবেদন জমার সময়সীমা

শেয়ার ইস্যুর ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রতিবেদন এডি ব্যাংকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। আর শেয়ার অবসায়নের অর্থ বিদেশে পাঠানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংককে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থ যে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে মূল বিনিয়োগ এসেছিল, সেই ব্যাংকের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীর নিজ দেশে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে লভ্যাংশ পাঠানো কিংবা শেয়ার অবসায়নের জন্যও আগাম অনুমোদন লাগবে না।

প্রিফারেন্স শেয়ার কী, কেন এই উদ্যোগ

প্রিফারেন্স শেয়ারের মালিকেরা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আগে নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ পান এবং কোম্পানি অবসায়িত হলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পান। তবে সাধারণত তাঁদের ভোটাধিকার থাকে না। ফলে স্থির আয় চান এমন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি তুলনামূলক কম ঝুঁকির বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, লভ্যাংশ পাঠানো ও মূলধন ফেরতের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন এবং ব্যাংকে কাজের সময়ও কমবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির স্বচ্ছতাও বাড়বে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা ও মূলধন দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করে আসছেন। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে এসব প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সার্কুলারকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আজকের পত্রিকা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।