শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
দেশ রূপান্তরআল্লাহর পরিচয় জানা জরুরি দেশ রূপান্তরসবার আগে জরুরি সাইবার নিরাপত্তা জাগো নিউজ ২৪স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত ও জরুরি চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ আজকের পত্রিকাসুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি প্রতিদিনের বাংলাদেশবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলা ট্রিবিউনযুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, জরুরি অবস্থা জারি যুগান্তরস্ট্রোক কী, কেন হয়? দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি যে কারণে দেশ রূপান্তরদাঁতের হলুদ ভাব দূর করতে যেসব অভ্যাস জরুরি জাগো নিউজ ২৪চিকিৎসক নেই জরুরি বিভাগেও, বন্ধ জনগুরুত্বপূর্ণ তিন বিভাগ ঢাকা পোস্টশিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষাও জরুরি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাল, বাংলাদেশের নতুন সময় ২০২৯

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। নেপালও একই সময় পেয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসার সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। আগের সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর, অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময় পর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

একই অধিবেশনে নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকালও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশ ২০২৯ সালে একসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠবে।

কণ্ঠভোটে প্রস্তাব পাস, বিরোধিতা করেনি কেউ

গ্রুপ অব ৭৭ ও চীনের পক্ষে খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি। সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। তবে ফ্রান্স, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ড সমর্থন জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই বাড়তি সময় ‘ব্যতিক্রমী বিবেচনায়’ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশকে মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবছর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটিকে (সিডিপি) প্রতিবেদন দিতে হবে। বাড়তি সময়ে কোন বাজারে কী সুবিধা বহাল থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী ও বাজারের নিজস্ব নিয়মের ওপর।

যেভাবে এল সিদ্ধান্ত

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার সিডিপির কাছে উত্তরণের সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টিতে ব্যক্তিগত সমর্থন চান।

জুনের শুরুতে সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। কমিটির চেয়ার হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো তখন বলেছিলেন, বাড়তি সময় কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার কাজে স্পষ্টভাবে ব্যবহার করতে হবে। এরপর ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়।

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় চেয়ে আসছিল। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সিদ্ধান্তকে সুখবর হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই সময়ে অবকাঠামো ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে হবে।

তবে শুধু সময় বাড়লেই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে না বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন। তাঁর মতে, বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাত ও অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে সংস্কার দরকার। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী মোস্তফা আবিদ খান বাড়তি সময়কে মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্য আলোচনায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

পটভূমি: কী হারাবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক-পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক—তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে দেশটি। ২০২১ সালের নভেম্বরে সাধারণ পরিষদ উত্তরণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। করোনা মহামারির অভিঘাত বিবেচনায় তখন সাধারণ তিন বছরের বদলে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল দেওয়া হয়েছিল।

উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ ছাড় এবং সহজ শর্তের ঋণপ্রাপ্তির অগ্রাধিকার ধাপে ধাপে কমে আসবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাক খাতে; ওষুধশিল্পেও মেধাস্বত্ব–সংক্রান্ত ছাড় হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাড়তি তিন বছর রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বন্দর ও কাস্টমস সেবার উন্নয়ন এবং বিকল্প বাজারসুবিধা নিশ্চিত করার কাজে লাগাতে না পারলে উত্তরণ-পরবর্তী ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।