রেকর্ড মুনাফায় সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা : বড় উল্লম্ফন ইপিএসে
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক পিএলসি তাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ব্যাংকটি ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যাংকটির আয়ের গ্রাফে বিশাল এক উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।
লভ্যাংশের ব্যবচ্ছেদ
ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। ঘোষিত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে রয়েছে:
১৫ শতাংশ নগদ (Cash Dividend)
১৫ শতাংশ বোনাস (Stock Dividend)
তুলনামূলক চিত্র: ২০২৪ সালে ব্যাংকটি মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল (সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস)। সেই তুলনায় এবার লভ্যাংশের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি নগদ প্রাপ্তিও বেড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য।
আয়ে চোখ ধাঁধানো প্রবৃদ্ধি (EPS)
সিটি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এর শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস (EPS)। তথ্যানুযায়ী, গত তিন বছরে ব্যাংকটির আয় ধারাবাহিকভাবে এবং দ্রুতগতিতে বেড়েছে:
| হিসাববছর | শেয়ার প্রতি আয় (EPS) | প্রবৃদ্ধির হার (আগের বছরের তুলনায়) |
| ২০২৫ | ৮.৭১ টাকা | প্রায় ৩০.৫৮% বৃদ্ধি |
| ২০২৪ | ৬.৬৭ টাকা | প্রায় ৪০.৭২% বৃদ্ধি |
| ২০২৩ | ৪.৭৪ টাকা | – |
২০২৩ সালে যেখানে আয় ছিল ৪.৭৪ টাকা, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮.৭১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের শক্তিশালী ব্যবসায়িক অবস্থান ও দক্ষ ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
টানা কয়েক বছর ধরে মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধির এই প্রবণতা পুঁজিবাজারে সিটি ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকটির নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক।
আগামীতে বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পর এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে। রেকর্ড মুনাফার ওপর ভিত্তি করে ঘোষিত এই লভ্যাংশ ব্যাংক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



