মোবাইল ব্যাংকিং

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আদলে দেশজুড়ে এজেন্ট ছড়াতে চায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

দেশের ব্যাংক খাতকে আরও আধুনিক এবং তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা সহজ করার দাবি জানিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটি চায়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো করে ব্যাংকগুলো যেন যত্রতত্র এজেন্ট নিয়োগের স্বাধীনতা পায়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সাথে এবিবি-র এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

কেন নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি?

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) তাদের প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক এজেন্ট নিয়োগ করতে পারে। এক্ষেত্রে একই এলাকায় কতজন এজেন্ট থাকবে বা এক এজেন্ট থেকে অন্য এজেন্টের দূরত্ব কত হবে, সে বিষয়ে কঠোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম এখনো অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে একটি ব্যাংক এজেন্ট নিয়োগ দিতে চাইলে:

  • ব্যাংকের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

  • পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়।

  • সাধারণত যেসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা নেই, কেবল সেখানেই এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ পাওয়া যায়।

ব্যাংকগুলোর মূল প্রস্তাবনা

বৈঠকে এবিবি প্রতিনিধিরা জানান, ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে এজেন্টের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোর প্রধান দাবিগুলো হলো:

  1. এজেন্ট নিয়োগে স্বাধীনতা: এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংকগুলোকেও নিজস্ব চাহিদামত এজেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা প্রদান।

  2. দূরত্ব ও সীমানা শিথিলকরণ: এজেন্টদের মধ্যকার দূরত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া যাতে যেকোনো স্থানে সহজেই ব্যাংকিং বুথ স্থাপন করা যায়।

  3. নীতিমালা আধুনিকায়ন: পুরনো ও জটিল অনেক নীতিমালা হালনাগাদ করে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।

গভর্নরের সাথে বৈঠক

বৈঠকে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আধুনিকায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে শুনেছেন। ব্যাংক খাতের সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং (Financial Inclusion) নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে বৈঠকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


সারসংক্ষেপ: ব্যাংকগুলো মূলত এমএফএস-এর মতো একটি অবাধ ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়, যাতে করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়। এটি সফল হলে সাধারণ মানুষের জন্য টাকা জমা দেওয়া, তোলা বা ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *