এইমাত্র পাওয়া

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাই পর্ব: পুরোনোদের দাপট বনাম নতুনদের রাজত্ব

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মূল পর্বের মহাযজ্ঞ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে হয়ে যাওয়া বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে রোমাঞ্চকর সব মুহূর্ত। ফুটবল বিশ্বের নামী ও খ্যাতনামা তারকারা তাদের নামের প্রতি কতটা সুবিচার করতে পারলেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মাঠের পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞ মহাতারকাদের কেউ কেউ তাদের চেনা দাপট ধরে রেখে ইতিহাস গড়েছেন, আবার কেউ কেউ ইনজুরি ও ফর্মহীনতায় ভুগেছেন। এর মাঝেই আগমন ঘটেছে নতুন কিছু রেকর্ডের।

ইউরোপীয় অঞ্চলে হালান্ড-রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার খেলা

ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই পর্বে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

  • আর্লিং হালান্ড: নরওয়েকে মূল পর্বের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে একক দাপট দেখিয়েছেন হালান্ড। পুরো বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করে তিনি রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছেন। ইজরায়েলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০টিরও কম ম্যাচে (৪৮ ম্যাচে ৫৫ গোল) ৫০ আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়া গত ৪৮ বছরের মধ্যে প্রথম ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দলের সবকটি বাছাই পর্বের ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।

  • ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: বয়সের তোয়াক্কা না করে পর্তুগালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী রোনালদো। বাছাই পর্বের ইতিহাসে কার্লোস রুইজের করা ৩৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে তিনি এখন ৪১ গোল নিয়ে বাছাই পর্বের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক লাল কার্ড দেখার তেতো স্বাদও পেতে হয়েছে তাকে।

এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউতোভিচ প্রত্যেকে ৮টি করে গোল করে নিজ নিজ দলের প্রধান ভরসা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে বাছাই পর্বে মাত্র ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে নিজের বিধ্বংসী ফর্মের জানান দিয়েছেন।

লাতিন আমেরিকায় মেসির শীর্ষস্থান, নেইমারের ইনজুরি ও ব্রাজিলের ধুঁকতে থাকা

লাতিন আমেরিকা (CONMEBOL) অঞ্চলের ১৮ ম্যাচের দীর্ঘ ও কঠিন বাছাই পর্বে বরাবরের মতোই নিজের ক্লাস দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। তবে ব্রাজিল ভক্তদের জন্য সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি।

  • লিওনেল মেসি: আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত এই অধিনায়ক পুরো অঞ্চলের বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে শীর্ষ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নিয়েছেন। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করে আর্জেন্টিনা ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে অত্যন্ত সহজেই মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে।

  • নেইমার জুনিয়র ও ব্রাজিল: ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমারের জন্য এই মৌসুমটি ছিল চরম হতাশাজনক। মারাত্মক ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। নেইমারের অনুপস্থিতি স্পষ্ট টের পেয়েছে সেলেসাওরা। পুরো বাছাই পর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামায় ভরা। ১৮ ম্যাচের মধ্যে তারা ৬টি ম্যাচেই হেরে বসেছে, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বেশ বিরল। শেষ পর্যন্ত ২৪ গোল নিয়ে টেবিলের ৫ নম্বরে থেকে কোনোমতে সরাসরি মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ব্রাজিলের হয়ে এই পর্বে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেছেন রাফিনহা।

লাতিন আমেরিকার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৫ দলের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

অবস্থানদলম্যাচজয়ড্রহারগোল ব্যবধানপয়েন্টশীর্ষ গোলদাতা
১আর্জেন্টিনা১৮১২২৪+২১৩৮লিওনেল মেসি (৮ গোল)
২ইকুয়েডর১৮৮৮২+৯২৯এনার ভ্যালেন্সিয়া (৬ গোল)
৩কলম্বিয়া১৮৭৭৪+১০২৮লুইস দিয়াজ (৭ গোল)
৪উরুগুয়ে১৮৭৭৪+১০২৮ডারউইন নুনেস (৫ গোল)
৫ব্রাজিল১৮৮৪৬+৭২৮রাফিনহা (৫ গোল)

এশিয়ায় সন হিউং-মিনের চেনা রূপ

এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বেও সুনামধন্য তারকা খেলোয়াড়রা তাদের চেনা ফর্ম দেখিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক এবং টটেনহ্যাম তারকা সন হিউং-মিন নিজের নামের প্রতি পূর্ণ বিচার করেছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং আক্রমণভাগ গোছানোর মূল দায়িত্বটি তিনি সফলভাবে পালন করেছেন, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে অনায়াসে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছে।

সার্বিক মূল্যায়ন:

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট বলা যায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সুনামধন্য বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ দাপট দেখাতে পেরেছেন এবং নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে, নেইমারের মতো তারকা ইনজুরির কাছে হেরে যাওয়ায় দলগতভাবে ভুগতে হয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। তবে সামগ্রিকভাবে, বিশ্বমঞ্চে নামার আগে এই তারকাদের ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের একটি জমজমাট বিশ্বকাপের আভাস দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *