উত্তরাখণ্ডে বদ্রিনাথফেরত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ৬
ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বদ্রিনাথ থেকে দেরাদুনগামী একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ছয় আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের চামোলি জেলায় একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ছয় আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে বদ্রিনাথ থেকে দেরাদুন যাওয়ার পথে জোশীমঠ উপত্যকার কাছে পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে বৃষ্টি, তুষারপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি ছিল।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
উত্তরাখণ্ড বেসামরিক বিমান চলাচল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইউসিএডিএ) বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের হেলিকপ্টারটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে বদ্রিনাথ থেকে উড্ডয়ন করে। গন্তব্য ছিল দেরাদুনের সহস্রধারা হেলিপোর্ট। জোশীমঠ উপত্যকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এর অবস্থান-শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও আর কোনো সংকেত দেখায়নি।
এরপর তল্লাশি শুরু হলে দুপুর আড়াইটার কিছু আগে চাই গ্রামের কাছে একটি পাহাড়ের ঢালে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মেলে। ঘটনাস্থলের কাছে ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় ও উদ্ধার তৎপরতা
চামোলির পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পানওয়ার আরোহীদের সবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পাইলট এবং পাঁচজন পুরুষ যাত্রী রয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যাত্রীরা সবাই কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। হেলিকপ্টারটি তীর্থযাত্রীদের বদ্রিনাথ ধামে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিল বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্যরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয় বলে জানা গেছে। পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।
কারণ অনুসন্ধান, উড্ডয়ন বন্ধ
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া নাকি কারিগরি ত্রুটি—কোনটি দায়ী, তা তদন্তে নির্ধারিত হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার চামোলি জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছিল। এতে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। বদ্রিনাথ-জোশীমঠ পথে বৃষ্টি ও তুষারপাতেরও আশঙ্কা ছিল।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ট্রান্স ভারত এভিয়েশনের সব হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
পাহাড়ি তীর্থপথে বারবার দুর্ঘটনা
হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরাখণ্ডের চারধাম—বদ্রিনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী—যাত্রায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী হেলিকপ্টার সেবা নেন। তবে সরু উপত্যকা, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া ও উঁচু পাহাড়ের কারণে এ অঞ্চলে হেলিকপ্টার চলাচল বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজ্যটিতে একাধিক প্রাণঘাতী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে কেদারনাথ পথে গরুড়চটির কাছে এক দুর্ঘটনায় সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালেও কয়েকটি দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টার সেবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং নজরদারি জোরদারের দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর আবারও পাহাড়ি অঞ্চলে খারাপ আবহাওয়ায় উড্ডয়নের অনুমতি এবং বেসরকারি অপারেটরদের নিরাপত্তা মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল হেরাল্ড, পিটিআই (লেটেস্টলি), সানডে গার্ডিয়ান, আজকের পত্রিকা, জাগো নিউজ




মন্তব্য (০)