বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
ব্রেক্সিট-পরবর্তী খাদ্যপণ্যের চেক তুলে দিতে খসড়া চুক্তিতে একমত যুক্তরাজ্য-ইইউ মজুরি আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও বন্ধ প্রায় ৫০০ পোশাক কারখানা জন্মদিনে ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ করলেন শাহরুখ চিকিৎসা খরচে দরিদ্র ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ, আর্থিক কষ্টে ৪১.৭% এইচএসসি-এসএসসি ফলাফল জানার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: অনলাইন চেক, এসএমএস ও পুনর্নিরীক্ষণ পকেটে ফোন রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে বড় গবেষণা অক্টোবরে ডেঙ্গুতে ১৭৪ মৃত্যু, বছরের সর্বোচ্চ; একদিনে ভর্তি ১৬৩৩ এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন প্রথম টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো আনল অ্যাপল, দাম ২৮৯৯ ডলার থেকে নভেম্বর থেকে টিসিবিতে মিলবে প্যাকেটজাত হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা

ব্রেক্সিট-পরবর্তী খাদ্যপণ্যের চেক তুলে দিতে খসড়া চুক্তিতে একমত যুক্তরাজ্য-ইইউ

ব্রেক্সিটের পর খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে চালু হওয়া সীমান্ত চেক ও সনদের ঝামেলা তুলে দিতে ২০০ পৃষ্ঠার একটি খসড়া চুক্তিতে একমত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ব্রেক্সিটের পর খাদ্য ও কৃষিপণ্য বাণিজ্যে যে সীমান্ত চেক, সনদ ও ফি চালু হয়েছিল, তা তুলে দিতে একটি খসড়া চুক্তিতে একমত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) নামে পরিচিত প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এই খসড়া মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্রাসেলসে ইইউ সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ইইউ রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে (কোরেপার) খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

রপ্তানিকারকদের কী বদলাবে

খসড়া অনুযায়ী, ইইউতে পণ্য পাঠাতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের এখন প্রতিটি চালানে প্রায় ২০০ পাউন্ডের এক্সপোর্ট হেলথ সার্টিফিকেট এবং ২৫ পাউন্ডের ফাইটোস্যানিটারি সনদ লাগে—চুক্তি কার্যকর হলে এগুলোর আর প্রয়োজন পড়বে না। পরিদর্শকের ফি, অর্গানিক সনদ, নমুনা পরীক্ষার ফি ও কিছু বন্দর মাশুলও উঠে যেতে পারে। পাশাপাশি তাজা সসেজ, বার্গার, দেশীয় শেলফিশ ও বীজ আলুর মতো যেসব পণ্যের রপ্তানি ব্রেক্সিটের পর কার্যত বন্ধ ছিল, সেগুলো আবার ইইউ বাজারে পাঠানো যাবে।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি থেকে দেশটির অর্থনীতি বছরে প্রায় ৫১০ কোটি পাউন্ড লাভবান হবে। ব্রিটিশ পোষা প্রাণীর জন্য ইইউতে ভ্রমণে পেট পাসপোর্টের স্বীকৃতিও ফিরছে। সরকার ২০২৭ সালের মাঝামাঝি চুক্তিটি কার্যকর করতে চায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিময়ে ইইউর নিয়ম মানবে যুক্তরাজ্য

এই সুবিধার বিনিময়ে উদ্ভিদ, প্রাণী ও খাদ্যমান সংক্রান্ত ইইউর বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ম অনুসরণ করতে সম্মত হচ্ছে যুক্তরাজ্য, যাকে বলা হচ্ছে ‘ডায়নামিক অ্যালাইনমেন্ট’। জিন সম্পাদিত উদ্ভিদের বিষয়ে ইংল্যান্ডের নিজস্ব নিয়ম থাকায় সেখানে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপস বিল’-এর মাধ্যমে এসব নিয়ম প্রয়োগের আইনি কাঠামো তৈরি হবে। একই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের কার্বন নির্গমন বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ইইউর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পথও খুলবে, যাতে ব্রিটিশ রপ্তানিকারকেরা ইইউর নতুন কার্বন সীমান্ত কর এড়াতে পারেন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রেও চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের অন্য অংশ থেকে সেখানে যাওয়া খাদ্যপণ্যে ‘আইরিশ সাগর সীমান্ত’-এর কারণে যে কাগজপত্র ও শারীরিক পরীক্ষা চলছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও বাকি আলোচনা

সুপারমার্কেট ও কৃষক সংগঠনগুলো খসড়াটিকে স্বাগত জানিয়েছে। ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্সের উইলিয়াম বেইন বলেছেন, ব্যবসায়ীরা অভিন্ন নিয়ম মানাকে ‘যুক্তিসংগত মূল্য’ হিসেবেই দেখছেন। তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেডনক ডায়নামিক অ্যালাইনমেন্টকে ‘রেড লাইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মুখপাত্র অ্যাল পিংকারটন একে ‘স্থায়ী সমাধান নয়, জোড়াতালি’ বলেছেন। ব্রেক্সিটপন্থী কিছু প্রচারকও ইইউর নিয়মে ফেরার সমালোচনা করছেন।

এসপিএস খসড়ার পাশাপাশি নির্গমন বাণিজ্য, তরুণদের জন্য ভ্রমণ ও কাজের ‘ইয়ুথ এক্সপেরিয়েন্স স্কিম’ এবং নেতাদের যৌথ বিবৃতির ১৫ পৃষ্ঠার খসড়াও পাঠানো হয়েছে। তবে ইয়ুথ স্কিমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ইইউ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ছাড় ও বিদ্যুৎ বাজার পুনঃসংযোগের মতো বিষয় আগামী বছরে গড়াতে পারে।

প্রেক্ষাপট

২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ছাড়ার পর থেকে খাদ্য ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে কাগজপত্র ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় বহু ছোট রপ্তানিকারক ইউরোপের বাজার হারান। কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় এসপিএস আলোচনা শুরু হয়। গত জুলাইয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে নির্ধারিত সম্মেলন পিছিয়ে যায়। চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে খসড়াগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। চুক্তিটি এখনো খসড়া পর্যায়ে, তাই দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আগে এর শর্তে পরিবর্তন আসতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, জাস্ট সিকিউরিটি, অ্যাডা দেরানা, বিজনেস ম্যাটার্স

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।