সিলেট টেস্ট: হাসানের ৬ উইকেটের দিনে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রানে অলআউট, তবে দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতে লাগবে আরও ৬৯।

সিলেট, ৬ নভেম্বর ২০২৬: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বাংলাদেশের জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতার। বল হাতে পেসার হাসান মাহমুদ ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে আটকে দিলেও ব্যাট হাতে আবারও চাপে পড়েছে স্বাগতিকেরা। শুক্রবার দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। প্রথম ইনিংসে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাওহীদ হৃদয় ২৯ ও মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। মাঠের বাইরে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ওপেনার সাদমান ইসলামের গোড়ালির চোট।
পটভূমি: সিরিজ বাঁচানোর লড়াই
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ এমনিতেই পিছিয়ে। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৮ উইকেটে, ফলে সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিলেটে হারলে বা ড্র হলে ঘরের মাঠে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হারবে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় রোস্টন চেজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গু ১৩১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পঞ্চম উইকেটে জাঙ্গু-জাস্টিন গ্রিভস যোগ করেন আরও ১০৬ রান। প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৩৫।
দ্বিতীয় দিনে হাসান মাহমুদের দাপট
দ্বিতীয় সকালে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান হাসান মাহমুদ। শতক পূর্ণ করা আমির জাঙ্গুকে ১৩৩ রানে বোল্ড করেন তিনি। ২১২ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছিলেন জাঙ্গু। পরের বলেই অধিনায়ক রোস্টন চেজকে শূন্য রানে ফেরান হাসান; চেজ ক্যাচ দেন উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। ২৬৪ রানে পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেট পড়ে যায় ক্যারিবীয়দের।
হ্যাটট্রিক বলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া জশুয়া বিশপ (২৩) ও শামার জোসেফকে (১৬) ফিরিয়ে ইনিংসে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিকানের অপরাজিত ২৭ রানে স্কোর সাড়ে তিন শ পেরোয়। জেইডেন সিলসকে এলবিডব্লিউ করে ১০৬.৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
তথ্য-উপাত্ত: এক নজরে স্কোরকার্ড
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস | ৩৫৬ অলআউট (১০৬.৪ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | আমির জাঙ্গু ১৩৩, কেভিন উইকহ্যাম ৬১, জাস্টিন গ্রিভস ৫১ |
| হাসান মাহমুদ | ২৪-১-৯০-৬ |
| তাসকিন আহমেদ | ২১-০-৯০-২ |
| মেহেদী হাসান মিরাজ | ৩১.৪-৫-৮২-২ |
| তাইজুল ইসলাম | ১৯-৩-৫৪-০ |
| বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস (দিন শেষে) | ৮৮/৩ (৪০ ওভার) |
| বাংলাদেশের আউট হওয়া ব্যাটার | তানজিদ হাসান ১৬, নাঈম হাসান ৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ |
| অপরাজিত | তাওহীদ হৃদয় ২৯*, মুশফিকুর রহিম ১৯* |
| ব্যবধান | প্রথম ইনিংসে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ |
ব্যাটিংয়ে আবারও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানে জেইডেন সিলসের বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম হাসান (৫)। ২২ রানে জাস্টিন গ্রিভসকে বড় শট খেলতে গিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান (১৬)। অধিনায়ক শান্ত ৬৫ বল খেলে থিতু হওয়ার আভাস দিলেও শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন ১৮ রানে। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হৃদয় ও মুশফিক অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে দিন পার করেন। দুজনই খেলেছেন ধৈর্য নিয়ে—হৃদয় ৮০ বলে, মুশফিক ৫৬ বলে।
দিনের বড় দুঃসংবাদ সাদমান ইসলামের চোট। ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ গোড়ালি মচকে যাওয়ায় তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। এমআরআই করানো হলেও দিন শেষে তাঁর ব্যাটিংয়ে নামা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। ইনিংস উদ্বোধনে তানজিদের সঙ্গী হন স্পিনার নাঈম হাসান।
বিশ্লেষণ: তৃতীয় দিনের সমীকরণ
টেস্টের নিয়মে ২০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষ ফলোঅন করাতে পারে। সে হিসাবে ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশকে অন্তত ১৫৭ রান করতে হবে, অর্থাৎ হাতে ৭ উইকেট রেখে দরকার আরও ৬৯ রান। হৃদয়-মুশফিকের পর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ে আছেন—কাগজে-কলমে লক্ষ্যটা কঠিন নয়। তবে সাদমান না নামতে পারলে কার্যত একজন ব্যাটার কম নিয়ে খেলতে হবে।
দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের তিন উইকেটই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা। তাই শনিবার সকালের প্রথম সেশনই ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দিতে পারে। হৃদয়-মুশফিক জুটি বড় হলে বাংলাদেশ লিড কমিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর পথে হাঁটতে পারে; আর দ্রুত উইকেট পড়লে সিরিজ হার এড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। ইতিবাচক দিক বলতে, হাসান মাহমুদের ধারালো বোলিং প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন টেস্টেও ম্যাচ ঘোরাতে সক্ষম।
প্রশ্নোত্তর: সিলেট টেস্ট নিয়ে যা জানা দরকার
বাংলাদেশ কত রানে পিছিয়ে?
দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ (৮৮/৩ বনাম ৩৫৬)।
ফলোঅন এড়াতে কত রান লাগবে?
দলীয় সংগ্রহ অন্তত ১৫৭ রান করতে হবে, অর্থাৎ আরও ৬৯ রান।
সিরিজের অবস্থা কী?
মিরপুর টেস্ট ৮ উইকেটে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিরিজ ড্র করতে সিলেটে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।
তৃতীয় দিনের খেলা কবে?
পাঁচ দিনের এই টেস্ট চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত; তৃতীয় দিনের খেলা শনিবার, ৭ নভেম্বর।
তথ্যসূত্র: ইএসপিএনক্রিকইনফো, আরব নিউজ, ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড, দ্য স্পোর্টস এনকাউন্টার, আল জাজিরা।




মন্তব্য (০)