ভালুকায় রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু, ময়মনসিংহে লোডশেডিং কমার আশা
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ দিয়ে সোলার বসানো যাবে, বাকিটা মিলবে ঋণে।
বাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার’ (ডিটিআরএস) কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভালুকা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই ময়মনসিংহ অঞ্চলে লোডশেডিং কমে আসবে।
কর্মসূচিটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)।
২০ শতাংশ টাকা দিলেই ছাদে সোলার
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় কোনো পরিবার নিজের বাড়ির ছাদে অথবা পিলারের ওপর কাঠামো বানিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে। এ জন্য ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মূল্যের মাত্র ২০ শতাংশ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৮০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে ইডকল ও বিআইএফএফএল, যা গ্রাহক কিস্তিতে শোধ করবেন।
উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে পরিবারটি প্রথমে নিজের চাহিদা মেটাবে। চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে একদিকে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ যোগ হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। তবে ঋণের সুদহার ও কিস্তির মেয়াদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অনুষ্ঠানে জানানো হয়নি।
প্রথম ধাপে দুই বাড়িতে স্থাপন
কর্মসূচির শুরুতে ভালুকার দুটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদের বাড়িতে বসানো হয়েছে ২০ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার ব্যবস্থা। আর স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাটারিসহ ৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম। কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল। বিআইএফএফএলের প্রধান নির্বাহী এস এম আনিসুজ্জামান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আশফাকুল আমিন মুকুটও বক্তব্য দেন।
সঞ্চালন অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করার কথা
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঞ্চালন লাইন গড়ে না ওঠায় এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছেন। এই সংকট কাটাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাসাবাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তবে কোন কোন প্রকল্পের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রেক্ষাপট
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। ভালুকা শিল্পঘন এলাকা হওয়ায় সেখানে বিদ্যুতের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়াতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদে স্থাপিত সোলার প্যানেল দিনের বেলায় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্বল্প প্রাথমিক বিনিয়োগে ঋণসুবিধা থাকায় ডিটিআরএস কর্মসূচি গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ, আমাদের সময়, জাগো নিউজ, দ্য নিউজই



মন্তব্য (০)