শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু
বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন ঢালিউডের পরিচিত খল অভিনেতা শিবা শানু। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেতা চৌধুরী মাজহার আলী, যিনি দর্শকদের কাছে শিবা শানু নামেই বেশি পরিচিত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগের মেয়াদ এক বছর।
নিয়োগের শর্ত কী
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর কর্মসম্পর্ক থাকলে তা ছিন্ন করতে হবে।
শিবা শানু বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হলে সমিতির সভাপতির পদ তাঁকে ছাড়তে হবে। ফলে শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে কী পরিবর্তন আসে, সেদিকেও নজর রয়েছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।
যা বললেন শিবা শানু
নিয়োগের খবর প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিবা শানু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নিয়োগের বিস্তারিত তিনি এখনো জানেন না। বিস্তারিত জানার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি পদে বর্তমানে দায়িত্বে আছেন শাওয়াল খানম। তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে এ পদে কাজ করছেন। শিবা শানু যোগদানের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
দুই দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবন
১৯৯৮ সালে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শিবা শানুর। শুরুতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করলেও পরে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা পান। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় খলনায়ক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি শিল্পীদের সংগঠনেও সক্রিয় তিনি। চলতি বছরের জুলাইয়ে বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ২৪৩ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন শিবা শানু। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর আরমান পান ১৭৩ ভোট। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অভিনেতা জয় চৌধুরী। ফলে চার মাসের মাথায় সমিতির শীর্ষ পদ ছেড়ে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী দায়িত্বে যাচ্ছেন এই অভিনেতা।
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট দেশের অসচ্ছল, অসুস্থ ও প্রবীণ শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিল্পীর অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের খবর সামনে আসায় শিল্পীদের সহায়তায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন সময়ে বিনোদন অঙ্গনেরই একজন পরিচিত মুখকে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নির্বাহী পদে বসানো হলো।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, একুশে টেলিভিশন, দৈনিক ইনকিলাব, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা



মন্তব্য (০)