টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ২০০ উইকেট, ইতিহাস গড়লেন রশিদ খান
ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট নিয়েছেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। শারজায় তাঁর রেকর্ডের দিনে জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে আফগানরা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি গড়েন তিনি। রেকর্ডের দিনে দলও পেয়েছে জয়—জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান।
মারুমানিকে ফিরিয়ে ২০০তম শিকার
জিম্বাবুয়ের রান তাড়ার নবম ওভারে ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে এলবিডব্লিউ করে ২০০তম উইকেটের দেখা পান রশিদ। আউট হওয়ার আগে মারুমানি করেছিলেন মাত্র ২ রান। ম্যাচে চার ওভার বল করে ২৯ রানে ওই একটি উইকেটই নিয়েছেন রশিদ। এর আগে ব্যাট হাতেও ঝড় তোলেন তিনি; শেষ দিকে মাত্র ছয় বলে চারটি ছক্কায় অপরাজিত ২৫ রান করেন এই অলরাউন্ডার।
এটি ছিল রশিদের ১২০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বুলাওয়েতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। প্রায় ১১ বছর পর সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই ছুঁলেন ঐতিহাসিক মাইলফলক।
পেছনে পড়ে আছেন সবাই
পরিসংখ্যান বলছে, রশিদ বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদের উইকেট ১৭১টি, তাও ১৫৩ ম্যাচে। অর্থাৎ ৩৩টি কম ম্যাচ খেলেই ২৯ উইকেটে এগিয়ে আছেন আফগান তারকা। এরপর রয়েছেন হংকংয়ের এহসান খান ও নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি (১৬৫টি করে), টিম সাউদি (১৬৪) এবং শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৬৩)।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকার হিসাবে, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে রশিদের বোলিং গড় ১৩.৯৬ এবং ইকোনমি রেট ৬.১৩। ক্যারিয়ারে দুবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি, সেরা বোলিং ৩ রানে ৫ উইকেট। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগসহ সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাঁর উইকেট সংখ্যা ৭৪২, যা এই সংস্করণে সর্বোচ্চ।
ওমরজাই-রাজার সেঞ্চুরির ম্যাচ
ম্যাচটি অবশ্য রশিদের রেকর্ডের পাশাপাশি দুই সেঞ্চুরির জন্যও মনে রাখার মতো। শুরুতে দ্রুত পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৫০ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ১২টি ছক্কা ও পাঁচটি চারে সাজানো ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। ইজাজ আহমদ আহমদজাইয়ের (২৭ বলে ৫২) সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৪২ রানের জুটি গড়েন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২১ রান।
জবাবে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৫৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করে লড়াই চালিয়ে যান। অভিষিক্ত তাফাদজওয়া সিগাকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১২০ রানের জুটিও গড়েন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২০২ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
প্রেক্ষাপট
রশিদ খান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা স্পিনার হিসেবে বিবেচিত। গত বছরের অক্টোবরে আবুধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকেও প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট ছুঁয়ে নিজের নাম আরও উঁচুতে তুললেন। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে রোববার (১ নভেম্বর)।
তথ্যসূত্র: ডন, গালফ নিউজ, এএনআই, মিনিট মিরর




মন্তব্য (০)