৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ, পুরোনো যন্ত্রে ছাপলে আর কাজ নয়
আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এনসিটিবির হিসাবে প্রাথমিকের ৯৩ শতাংশের বেশি বই ছাপা ও ৮৫ শতাংশ সরবরাহ শেষ হয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর মাতুয়াইলে দুটি ছাপাখানা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী বছর থেকে পুরোনো মুদ্রণযন্ত্রে কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী মাতুয়াইলের বর্ণমালা প্রেস ও গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি বই ছাপার প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং কাগজ ও ছাপার মান খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনের সময় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মান নিয়ে আপস না করার তাগিদ
পরিদর্শনকালে কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও ছাপার সারিবদ্ধতায় অসংগতি চোখে পড়ে প্রতিমন্ত্রীর। এ ধরনের ত্রুটি যেন বড় পরিসরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যবই ছাপার কাজ নেওয়ার অর্থ হলো নির্ধারিত মান বজায় রেখে তা শেষ করা। কোনো প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতা থাকলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগেই তা বিবেচনা করা উচিত; পরে সেটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে বইয়ের মানে ছাড় দেওয়া যাবে না। শুধু ছাপা শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।” এ কাজে অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। ভবিষ্যতে আধুনিক ও পর্যাপ্ত সক্ষমতার মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ছাপা ও সরবরাহের অগ্রগতি
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি। সব মিলিয়ে ছাপার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৩ শতাংশের বেশি বই ছাপা হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও সরবরাহপূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে অগ্রগতি তুলনামূলক কম; প্রথম দরপত্রের আওতায় থাকা ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় অর্ধেক ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল।
জানুয়ারিতে সব বই হাতে দেওয়ার লক্ষ্য
এনসিটিবি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব স্তরের বই ছাপা শেষ করে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কিছু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে জানুয়ারিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু বই পেতে শিক্ষার্থীদের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে এবার আগেভাগে দরপত্র, কার্যাদেশ ও সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এনসিটিবি।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, বাসস





মন্তব্য (০)