৪০ হাজার কোটি রুপিতে ৮টি নতুন প্রজন্মের করভেট পাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আটটি নতুন প্রজন্মের করভেট নির্মাণে ৪০ হাজার কোটি রুপির বেশি ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি। প্রথম জাহাজ ২০৩০ সালের মধ্যে হাতে পাওয়ার আশা করছে নৌবাহিনী।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আটটি নতুন প্রজন্মের করভেট (এনজিসি) যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি (সিসিএস)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি রুপির বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে বুধবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবটি পাস হয় বলে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিষয়টি একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত দুই জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হবে। চুক্তির পর ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম জাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
কারা বানাবে জাহাজগুলো
প্রতিরক্ষা বিষয়ক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ভারতশক্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি করভেটের মধ্যে পাঁচটি তৈরি করবে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। বাকি তিনটি নির্মাণ করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (জিএসএল)। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল জিআরএসই, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল গোয়া শিপইয়ার্ড। তবে দুই প্রতিষ্ঠানই প্রতিটি জাহাজ একই দামে বানাবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজ সরবরাহের উপায় খুঁজছে শিপইয়ার্ড দুটি। প্রকল্পের বাণিজ্যিক দরপত্র খোলা হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে।
কেমন হবে নতুন করভেট
নতুন করভেটগুলোর নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজেই। এতে আধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি ও স্টেলথ বা রাডারে কম ধরা পড়ার কৌশল ব্যবহার করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজের ওজন হবে প্রায় দুই হাজার টন এবং সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় প্রায় ৩০ নট, অর্থাৎ ৫৫ কিলোমিটারের মতো।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজগুলোকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছে। নজরদারি, অন্য জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া, উপকূল প্রতিরক্ষা, সারফেস অ্যাকশন গ্রুপের অভিযান এবং শত্রুর জাহাজ খুঁজে বের করে আক্রমণের মতো কাজে এগুলো ব্যবহার করা হবে। ভূপৃষ্ঠ, আকাশ ও ডুবোজাহাজবিরোধী যুদ্ধেও সক্ষম হবে এসব করভেট।
পুরোনো জাহাজের স্থলাভিষিক্ত
ভারতশক্তির তথ্যমতে, নতুন জাহাজগুলো নৌবাহিনীর বহরে থাকা পুরোনো খুকরি ও কোরা শ্রেণির করভেটের জায়গা নেবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার নীতির অংশ হিসেবে প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে।
এই করভেটের চাহিদাপত্র প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবরে। তখন সাতটি জাহাজের পরিকল্পনা ছিল। পরে ২০২২ সালের জুনে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ (ডিএসি) আটটি করভেট কেনার প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এবার মন্ত্রিসভা পর্যায়ের চূড়ান্ত সবুজসংকেত মিলল।
প্রেক্ষাপট
করভেট সাধারণত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে ছোট, তবে দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ। উপকূলীয় এলাকা ও কাছাকাছি সমুদ্রে টহল এবং নিরাপত্তার কাজে এগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত দেশীয় শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে জোর দিচ্ছে। জিআরএসই ও গোয়া শিপইয়ার্ড দুটিই এর আগে নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য একাধিক জাহাজ তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: এএনআই, ভারতশক্তি, আরএনএ মিডিয়া, ইন্ডিয়ান ডিফেন্স নিউজ




মন্তব্য (০)