বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
প্রতিদিনের বাংলাদেশআওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা: জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন হাসিনা সমকালমাঝেমধ্যে কিছুই না করে সময় কাটানো কেন জরুরি প্রথম আলোশিশুর মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারিবারিক বন্ধন জরুরি সমকালসাজেকে নিত্যপণ্য, জরুরি ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত, জনভোগান্তি প্রথম আলোশিশুর খতনায় পুরোপুরি অজ্ঞান করা কি জরুরি দেশ রূপান্তরমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা জরুরি খবরের কাগজবিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো জরুরি দেশ রূপান্তরমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা জরুরি: ডা. সারওয়ার আলী আজকের পত্রিকাডিজিটাল রূপান্তরের আগে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি: হিট প্রকল্প পরিচালক সমকালমুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই জরুরি: নুর আহমদ বকুল

আপেল-কমলা-আঙুরে শুল্ক ১২২%, সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ

আপেল, কমলা, মাল্টা-জাতীয় ফল, আঙুর, নাশপাতি ও আনারের ওপর সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। পাঁচ বছরে এসব ফলের আমদানি কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

পাইকারি বাজারে কাঠের ঝুড়িতে সাজানো আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও আনারসহ আমদানি করা তাজা ফল
প্রতীকী ছবি ছবি: ClaimBD

দেশে আমদানি করা আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনারের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। এসব ফলে বর্তমানে মোট শুল্ক-করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ হলো, এই ছয়টি ফলের দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই। ফলে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে উচ্চ শুল্ক রাখার প্রয়োজনীয়তা কম। বরং বিলাসপণ্যের মতো করারোপের কারণে সাধারণ মানুষের পুষ্টি গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।

পাঁচ বছরে শুল্ক বেড়েছে, কমেছে আমদানি

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব ফল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়াতে থাকে, যা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

একই সময়ে আমদানির পরিমাণ উল্টো দিকে গেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৮ লাখ টন তাজা ফল আমদানি হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে আসে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টনে, অর্থাৎ পাঁচ বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে আপেল ও কমলার আমদানি।

শুল্কের পাশাপাশি টাকার অবমূল্যায়নও আমদানি খরচ বাড়িয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ডলারের গড় দর ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৫০ পয়সায়। আমদানি কমলেও উচ্চ শুল্ক ও বাড়তি বিনিময় হারের কারণে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব বেড়েছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ফল আমদানি থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।

কমিশনের সুপারিশ কী

ট্যারিফ কমিশন ছয়টি ফলের ক্ষেত্রে সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাজা ফলকে বিলাসপণ্য নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। আমদানি করা ফলের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে প্রচলিত শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা অনুসরণ এবং শুল্ক কমানোর পর রাজস্ব আদায় ও আমদানির গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

কমিশনের হিসাবে, মোট করভার ৮৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে আমদানি বেড়ে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে এবং তাতে এনবিআরের রাজস্ব সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। অর্থাৎ শুল্কহার না বাড়িয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে ডেইলি বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি শিগগির এনবিআরে পাঠানো হবে।

বাজারে চড়া দাম, ভোক্তার চাপ

রাজধানীর খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, কমলা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পাইকারি পর্যায়ের তুলনায় খুচরা বিক্রেতারা বেশি মুনাফা করছেন; এই ব্যবধান কমানো গেলেও দাম কিছুটা সহনীয় হতে পারে। এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় কমলাসহ কিছু ফলের চাহিদাও বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মনে করেন, উচ্চ শুল্কে সরকারের আয় বাড়লেও অনেক মানুষ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলসহ নিত্যপণ্যের শুল্ক তুলে দিয়ে রাজস্ব আহরণের বিকল্প উপায় খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আগেও এসেছিল একই সুপারিশ

তাজা ফলের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্যারিফ কমিশন এনবিআরকে চিঠি দিয়ে সম্পূরক শুল্ক ৩০ থেকে ২০ শতাংশে নামানো ও অগ্রিম কর কমানোর সুপারিশ করেছিল। একই বছরের ডিসেম্বরে রমজান সামনে রেখে ফলকে খেজুরের মতো নিত্যপণ্য হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত শুল্ক কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ডেইলি বাংলাদেশ, প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।