এইমাত্র পাওয়া

সাড়ে ৫৬% ট্যাক্স দিয়ে বাংলাদেশে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না: সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় সংসদে উচ্চ করহার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। দেশের বিদ্যমান কর কাঠামো বিনিয়োগবান্ধব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কার্যকর করের বোঝা প্রায় ৫৬.৫ শতাংশে পৌঁছালে কোনো ব্যবসায়ীই বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশের অর্থনীতি ও করনীতি নিয়ে এই গঠনমূলক সমালোচনা করেন তিনি।

করের বোঝা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর পর্যবেক্ষণ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে দেখান যে, কীভাবে একজন উদ্যোক্তার আয়ের বড় একটি অংশ কর হিসেবে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি আমি বাংলাদেশে ১০০ টাকা আয় করি, তাহলে প্রথমে কর্পোরেট কর হিসেবে প্রায় ২৭.৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থ থেকে ডিভিডেন্ড কর ও সারচার্জসহ আরও কর দিতে হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে কার্যকর করের বোঝা প্রায় ৫৬.৫ শতাংশে পৌঁছে যায় এবং উদ্যোক্তার হাতে থাকে মাত্র ৪৩.৫ টাকা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান কর ব্যবস্থায় উদ্যোক্তাদের হাতে বিনিয়োগের জন্য খুব সামান্য অর্থই অবশিষ্ট থাকে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্বেগের কারণ।

আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে তুলনা ও সতর্কবার্তা

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশগুলোর কর ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করের বোঝা অনেক বেশি। এই উচ্চ করহার দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করছে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে ব্যবসায়ী কম করের দেশে ব্যবসা করতে পারেন, তিনি এত বেশি কার্যকর করের বোঝা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। এটি সরকারের সমালোচনার জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে গঠনমূলক সমালোচনার জায়গা থেকে বলা হচ্ছে।”

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের অভিমত

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে কর কাঠামোর সরলীকরণ এবং করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। উচ্চ কর্পোরেট করহার অনেক সময় কর ফাঁকির প্রবণতাও বাড়িয়ে দেয়, যা জাতীয় রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংসদ সদস্যের এই সাহসী ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্যের পর এখন দেখার বিষয়, সরকার আগামী বাজেট বা করনীতিতে কোনো বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেয় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *