অধিদপ্তর থেকে নতুন নির্দেশনা জারি ২০২৬ । একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে মিলবে না ই-পাসপোর্ট?
বাংলাদেশের নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজতর করতে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পাসপোর্ট) মো: সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রধান সমস্যা: একাধিক জন্ম নিবন্ধন
অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক পাসপোর্ট আবেদনকারীর নামে অনলাইন ডাটাবেজে এক বা একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ সক্রিয় রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির নামে একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই জটিলতার কারণে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সমস্যার সমাধানে অধিদপ্তরের নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে দুটি সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির আলোকে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে:
অনলাইনে একাধিক নিবন্ধন থাকলে: যদি কোনো ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন অনলাইন সিস্টেমে সচল থাকে, তবে আবেদনকারীকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে একটি মাত্র নিবন্ধন সচল রেখে বাকিগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ও অফলাইন উভয় নিবন্ধন থাকলে: যদি কোনো ব্যক্তির একটি নিবন্ধন অনলাইনে এবং অন্যটি অফলাইনে থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইন জন্ম নিবন্ধনটিই পাসপোর্ট আবেদনের জন্য বিবেচনা করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
ই-পাসপোর্ট পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং জাতীয় ডাটাবেজের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যক্তির একাধিক পরিচয় বা তথ্য থাকলে সিস্টেম তা শনাক্ত করে আবেদন ‘হোল্ড’ বা স্থগিত করে দেয়। মূলত দ্বৈত নিবন্ধন রোধ এবং পাসপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
আবেদনকারীদের জন্য করণীয়
পাসপোর্ট বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনের আগেই আবেদনকারীর উচিত তার জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইন কি না এবং একাধিক কোনো কপি রয়েছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া। কোনো গরমিল থাকলে পাসপোর্টের আবেদন করার পূর্বেই তা স্থানীয় পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে সংশোধন বা সমন্বয় করে নেওয়া জরুরি।



