১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর: বিভ্রান্তি ও আসল সত্য
দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ নীতিগতভাবে কার্যকর হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সরকারের এই ঘোষণার পর ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের কিছু ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ চাকুরিজীবীদের একাংশের মনে ধারণা জন্মে যে, চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়ে গেছে।
বাস্তবতা হলো, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল হিসাবের আওতায় আসলেও এখনও পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে সরকারি চাকুরিজীবীরা এখনই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না।
গেজেট প্রকাশ ও বর্ধিত বেতন কবে?
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির সূত্র অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপরেখা বাস্তবায়নে আরও কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময়: ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা তার পরবর্তী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি হতে পারে।
বর্ধিত বেতন প্রাপ্তি: গেজেট প্রকাশের পর সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (iBAS++) হালনাগাদ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে চাকুরিজীবীরা বর্ধিত বেতন হাতে পেতে পারেন, যা ১ জুলাই থেকে বকেয়া (Arrears) হিসেবে সমন্বয় করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা
এবারের পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত তথ্য অনুযায়ী:
১১ থেকে ২০তম গ্রেড: মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০% থেকে ১৩৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১ থেকে ১০ম গ্রেড: কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।
বাস্তবায়ন মডেল: আইবিএএস সফটওয়্যারের কারিগরি জটিলতা এড়াতে সরকার এবার ‘দুই ধাপের মডেল’ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আওতায় চলতি অর্থবছর (২০২৬-২৭) থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৭-২৮) বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। এই উদ্দেশ্যে বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রেস কাউন্সিল ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার প্রসঙ্গে একটি নোট
সংশয়টি অত্যন্ত যৌক্তিক। সাধারণ মানুষ ফটোকার্ডের শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়ায় হলুদ সাংবাদিকতা বা ক্লিকবেইট সংস্কৃতির প্রশ্ন উঠছে।
প্রেস কাউন্সিলের জুরিসডিকশন: প্রিন্ট মিডিয়া বা সংবাদপত্রের নৈতিক স্খলন, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি এখতিয়ার বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের রয়েছে। তবে তারা সাধারণত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ, সতর্কীকরণ বা তিরস্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়: অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো বা সংবেদনশীল বিষয়ে ক্লিকবেইট হেডিং দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়টি দেখভালের মূল দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সেলগুলোর।
কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটিতে (1.jfif) টেকনিক্যালি তথ্য ভুল দেওয়া হয়নি (যেহেতু ভেতরে বলা হয়েছে গেজেটের পর বেতন মিলবে), তবে শিরোনামের গঠনশৈলী সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। দ্রুত লাইক-শেয়ার পাওয়ার এই সাংবাদিকতার যুগে এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়।


