হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, সরলেন সুসি ওয়াইলস
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির তিন দিন পর সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসন নীতির কারিগর স্টিফেন মিলারকে চিফ অব স্টাফ করলেন ট্রাম্প। কেন, কী প্রভাব—জানুন।

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের তিন দিনের মাথায় হোয়াইট হাউসের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের জায়গায় দায়িত্ব নেবেন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে এই ঘোষণা আসে। এবিসি নিউজ, আল জাজিরা, বোস্টন গ্লোবসহ একাধিক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলার সোমবার থেকে নতুন দায়িত্ব শুরু করবেন।
ট্রাম্প কী বললেন, ওয়াইলস কোথায় যাচ্ছেন
ঘোষণায় ট্রাম্প মিলারকে নিজের ‘সবচেয়ে আস্থাভাজন উপদেষ্টাদের একজন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ওয়াইলসের কাজের প্রশংসা করে জানান, তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংগঠনে কাজ চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ ওয়াইলসকে পুরোপুরি বিদায় না দিয়ে দলীয় রাজনীতির মাঠে সরিয়ে নেওয়া হলো।
ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ওয়াইলস নিজেও একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের হয়ে কাজ করাকে ‘জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ও তাঁর লক্ষ্যের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার বদলাবে না।
পটভূমি: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে বলে এনপিআর, এনবিসিসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল এখনো গণনাধীন থাকলেও সার্বিক চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য স্পষ্টতই হতাশাজনক। নতুন কংগ্রেস যাত্রা শুরু করবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।
নির্বাচনের পর থেকেই হোয়াইট হাউস ও মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন চলছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার এসবিএসসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, চিফ অব স্টাফ বদল হয়তো বড় পরিসরের রদবদলের শুরু মাত্র। তবে অন্য কোনো পদে পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
কে এই সুসি ওয়াইলস, কে স্টিফেন মিলার
সুসি ওয়াইলস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে তিনি এই পদে ছিলেন। ফ্লোরিডাভিত্তিক এই রাজনৈতিক কৌশলবিদ ২০১৬ ও ২০২০ সালে ট্রাম্পের ফ্লোরিডা প্রচারণা চালান এবং ২০২৪ সালের জয়ী প্রচারণার নেতৃত্বেও ছিলেন। বোস্টন গ্লোবের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দুই মেয়াদ মিলিয়ে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এই পদে থাকা চিফ অব স্টাফ।
স্টিফেন মিলার ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতা লেখক হিসেবে ট্রাম্পের দলে যোগ দেন। এর আগে তিনি সাবেক সিনেটর জেফ সেশনসের সহকারী ছিলেন। প্রথম মেয়াদে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কঠোর সীমান্তনীতি ও গণবিতাড়ন কর্মসূচির প্রধান রূপকার হিসেবে তিনি পরিচিত।
এক নজরে ট্রাম্প প্রশাসনের চিফ অব স্টাফরা
| মেয়াদ | চিফ অব স্টাফ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্রথম মেয়াদ (২০১৭–২০২১) | রেইন্স প্রিবাস | প্রথম চিফ অব স্টাফ |
| প্রথম মেয়াদ | জন কেলি | অবসরপ্রাপ্ত মেরিন জেনারেল |
| প্রথম মেয়াদ | মিক মালভেনি | ভারপ্রাপ্ত |
| প্রথম মেয়াদ | মার্ক মেডোস | মেয়াদের শেষ পর্যন্ত |
| দ্বিতীয় মেয়াদ (জানুয়ারি ২০২৫–নভেম্বর ২০২৬) | সুসি ওয়াইলস | প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ |
| দ্বিতীয় মেয়াদ (নভেম্বর ২০২৬ থেকে) | স্টিফেন মিলার | সাবেক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ |
বিশ্লেষণ: এই পরিবর্তনের মানে কী
ওয়াইলস পরিচিত ছিলেন পর্দার আড়ালে থেকে প্রশাসন সামলানো, তুলনামূলক কম আলোচিত একজন ব্যবস্থাপক হিসেবে। বিপরীতে মিলার নীতিগত অবস্থানে কট্টর এবং প্রকাশ্যে সরব। ফলে কংগ্রেস যখন বিরোধী দলের হাতে যাচ্ছে, ঠিক তখন আপসের বদলে আরও কঠোর অবস্থানের পথেই হাঁটছে হোয়াইট হাউস—এমন বার্তা হিসেবে অনেকে পরিবর্তনটিকে দেখছেন।
অন্যদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা মিলারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁকে এখন প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং কংগ্রেসের সঙ্গে দর-কষাকষির মূল দায়িত্বও সামলাতে হবে। বিরোধী নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে বাজেট ও আইন পাসের প্রশ্নে তাঁর কৌশল কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রশ্নোত্তর: বাংলাদেশি পাঠকের যা জানা দরকার
চিফ অব স্টাফ পদটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এটি হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ। প্রেসিডেন্টের কাছে কে পৌঁছাবেন, কোন নীতি অগ্রাধিকার পাবে—সেসব অনেকটাই এই পদ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। পদটির জন্য সিনেটের অনুমোদন লাগে না।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি?
এখনই নতুন কোনো অভিবাসন নিয়ম ঘোষণা হয়নি। তবে অভিবাসননীতির মূল কারিগর প্রশাসনের কেন্দ্রে আরও শক্ত অবস্থানে আসায় ভিসা, শিক্ষার্থী ও অভিবাসন–সংক্রান্ত নীতিতে কড়াকড়ি বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের গুজবে কান না দিয়ে মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসসিআইএসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত।
আরও রদবদল কি হবে?
সংবাদমাধ্যমগুলোতে মন্ত্রিসভা রদবদলের সম্ভাবনার কথা এলেও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিছু নিশ্চিত করেনি।
তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ, আল জাজিরা, বোস্টন গ্লোব, এনপিআর, এসবিএস নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট।

মন্তব্য (০)