মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: মিসিসিপি-আলাস্কায় ঝুলে সিনেটের ফল
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের। মিসিসিপিতে ব্যবধান ১,৭২৪ ভোট, আলাস্কায় ৭০০-এর কম—জেনে নিন সর্বশেষ গণনা ও সময়সীমা।

ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন দিন পরও দুটি সিনেট আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি। গত ৩ নভেম্বরের ভোটে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। তবে মিসিসিপি ও আলাস্কায় ব্যবধান এতটাই কম যে, বার্তা সংস্থা এপি এখনো সেখানে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি। এই দুই আসনের ফলই ঠিক করবে, নতুন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কত বড় হবে।
পটভূমি: যে কারণে নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আসনের সঙ্গে তাদের পক্ষে থাকা দুই স্বতন্ত্র সিনেটর মিলিয়ে বিরোধী শিবিরে ছিল ৪৭টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদও ছিল রিপাবলিকানদের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এই ভোটকে তাঁর সরকারের ওপর গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
ইতিহাস বলছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে প্রায় ২৫টি আসন হারায়। এবারের ফল সেই প্রবণতাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তথ্য-উপাত্ত: এক নজরে ফল
সিবিএস নিউজের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪টি আসন নিশ্চিত করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে তাদের আসন ২৫১ থেকে ২৬৮টির মধ্যে থাকতে পারে; সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ২১৮টি। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা দুই ডজনের বেশি আসন ডেমোক্র্যাটরা ছিনিয়ে নিয়েছে, যদিও বেশ কিছু আসনে গণনা এখনো চলছে।
| বিষয় | সর্বশেষ অবস্থা |
|---|---|
| ভোটের তারিখ | ৩ নভেম্বর ২০২৬ |
| নির্বাচনের আগে সিনেট | রিপাবলিকান ৫৩, ডেমোক্র্যাট শিবির ৪৭ |
| সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসন | অন্তত ৫৪ (সিবিএস নিউজ) |
| ডেমোক্র্যাটদের ছিনিয়ে নেওয়া সিনেট আসন | ৭টি — টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা |
| প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আসন | ২৫১–২৬৮ (সিবিএস প্রক্ষেপণ) |
| ফল অঘোষিত সিনেট আসন | মিসিসিপি ও আলাস্কা |
মিসিসিপি: ব্যবধান হাজার দেড়েক ভোটের
মিসিসিপিতে রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলম এগিয়ে আছেন। ফক্স নিউজের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্র সময়) সকালে প্রায় ৯৫.৬ শতাংশ ভোট গণনার পর কলমের ভোট ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬, আর হাইড-স্মিথের ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৮। ইয়াহু নিউজ এপির হিসাব উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একই দিন বিকেলে প্রায় ৯৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৪ ভোটে, যা মোট ভোটের মাত্র ০.১৯ শতাংশ।
রাজ্যের রিপাবলিকান দলের হিসাবে এখনো প্রায় ২০ হাজার ব্যালট গণনা বাকি। এর বড় অংশ ‘অ্যাফিডেভিট ব্যালট’—যাঁরা ভোটের দিন গ্রহণযোগ্য ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের দেওয়া শর্তসাপেক্ষ ভোট। এসব ভোটারকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে পরিচয় প্রমাণ করতে হবে; ডাকযোগে আসা ব্যালট গ্রহণের শেষ সময়ও সেদিন। কাউন্টি পর্যায়ে ফল প্রত্যয়নের সময়সীমা ১৩ নভেম্বর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মিসিসিপিতে পুনর্গণনার কোনো আইন নেই। তাই ব্যবধান খুব কম থাকলে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে। হাইড-স্মিথের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে অ্যাফিডেভিট ব্যালট আলাদা ও সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
আলাস্কা: র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটে সময় লাগবে
আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা সামান্য এগিয়ে। ফক্স নিউজের বৃহস্পতিবারের হিসাবে ব্যবধান ৭০০ ভোটেরও কম, আর রাজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোট তখনো গণনা বাকি ছিল। আলাস্কায় র্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতি চালু থাকায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়েন এবং তাঁর ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দ গোনা হয়। ফলে চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিশ্লেষণ: ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কী অপেক্ষা করছে
দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আগামী জানুয়ারি থেকে আইন প্রণয়ন ও তদন্তে ডেমোক্র্যাটদের হাত শক্ত হবে। দলটির নেতারা ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিবিএসকে বলেছেন, তিনি ফল মেনে নেবেন, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং প্রয়োজনে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। পরাজয়ের জন্য তিনি দলের প্রার্থীদের দায়ী করেছেন এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে একটি কারণ হিসেবে মেনে নিয়েছেন।
রিপাবলিকান শিবিরেও নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তিনি পরবর্তী কংগ্রেসে দলীয় নেতা পদে লড়বেন না। এই নির্বাচনে কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনাও ঘটেছে—টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট আসনে জিতেছেন, আর জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
পাঠকের প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: নতুন কংগ্রেস কবে দায়িত্ব নেবে?
উত্তর: মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হয় নির্বাচনের পরের বছরের ৩ জানুয়ারি।
প্রশ্ন: মিসিসিপি ও আলাস্কার ফলে কি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলাবে?
উত্তর: না। দুটি আসনই রিপাবলিকানরা পেলেও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৫৪ আসন থাকছে। এই ফল শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার আকার নির্ধারণ করবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: বাণিজ্য, শুল্ক ও অভিবাসন–সংক্রান্ত মার্কিন আইনে কংগ্রেসের ভূমিকা বড়। ফলে পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে নীতিনির্ধারণে নতুন কংগ্রেসের অবস্থান নজরে রাখার মতো।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, এপি (ইয়াহু নিউজের মাধ্যমে), ফক্স নিউজ, নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ



মন্তব্য (০)