অক্টোবরে ডেঙ্গুতে ১৭৪ মৃত্যু, বছরের সর্বোচ্চ; একদিনে ভর্তি ১৬৩৩
চলতি বছর অক্টোবরেই ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৩৮০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৬৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে অক্টোবরে। মাসটিতে এডিস মশাবাহিত এই রোগে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৮০ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ৬৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বছরে মৃত্যু ৪১৯, আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার
অধিদপ্তরের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজারে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালে ৬ হাজার ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
আগের দিন শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ২৬২ জন ভর্তির তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও নতুন ভর্তি রোগী বেড়েছে।
ভর্তি রোগীর বড় অংশ ঢাকা বিভাগে
শেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০৪ জন ঢাকা বিভাগের (দুই সিটি করপোরেশনসহ)। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮১ জন, বরিশালে ২৩৪ জন, খুলনায় ২২৮ জন, রাজশাহীতে ১৪৯ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবেও ঢাকা শীর্ষে, সেখানে ১৯৭ জনের প্রাণ গেছে। এরপর খুলনায় ৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৪২ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, বরিশালে ২৯ জন, রাজশাহীতে ২৮ জন, রংপুরে ৮ জন এবং সিলেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাসভিত্তিক চিত্র: সেপ্টেম্বর থেকে দ্রুত বৃদ্ধি
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল সামান্য। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মে মাসে একজন মারা যান; মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। বর্ষা শুরুর পর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে, আর অক্টোবরে তা আরও বেড়ে ১৭৪ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশই ঘটেছে শেষ দুই মাসে।
প্রেক্ষাপট ও করণীয়
বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। থেমে থেমে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং দিনের বেলাতেও মশারি বা মশা প্রতিরোধক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছে। জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রয়োজনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নভেম্বরের শুরুতে তাপমাত্রা কমতে থাকলেও বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় এ মাসেও সংক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায় না। তাই সচেতনতা ও মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার তাগিদ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দৈনিক আমার দেশ, সময়ের কণ্ঠস্বর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪




মন্তব্য (০)