এইমাত্র পাওয়া

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, স্পিকারের দায়িত্বে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার জাতীয় সংসদে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যভার পালন করেন।

এদিকে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্বভার অস্থায়ীভাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। ফলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকারের পদ কার্যত শূন্য থাকলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

স্পিকারের ব্যাখ্যা

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও অন্তর্ভুক্ত থাকে। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের মাধ্যমে স্পিকারের অনুপস্থিতি বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক ক্ষমতা অর্জন করেন।

দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট শূন্যপদ পূরণে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী দ্রুত তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কোনো শূন্যতা তৈরি হয়নি। সংবিধানের নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *