এইমাত্র পাওয়া

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার কারণ উল্লেখ

শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে তিনি এই ঘোষণা দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তিনি নিজের শারীরিক জটিলতা ও বিগত সময়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট নিরসনে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেছিলেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের অধীনে সরকারি ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো বড় ধরণের সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও পদত্যাগের কারণ:

চিঠিতে নিজের শারীরিক অসুস্থতার বিস্তারিত তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তার হৃদয়ে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘Autonomic Neuropathy’ নামক একটি রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন।

শারীরিক ও মানসিক এই অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার সুচিকিৎসার জন্য এখন দীর্ঘমেয়াদী সময় ও বিশ্রাম প্রয়োজন।

সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ:

পরিশেষে, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *