এইমাত্র পাওয়া

বিকাশ-রবি-বাংলালিংকসহ চার ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন, এলওআই পাবে ৫ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নতুন করে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লেটার অব ইনটেন্ট (LoI) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন করে চারটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেলেও আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও LoI দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেল

যে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রাথমিক অনুমোদন পেল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চারটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংক হলো—

  1. বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক — বিকাশের শেয়ারধারীদের উদ্যোগে।
  2. বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক — রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোগে।
  3. ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে — ভুটানের ডিকে ব্যাংকের উদ্যোক্তায়।
  4. নোভা ডিজিটাল ব্যাংক — বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে।

এর পাশাপাশি আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক-কেও LoI দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাথমিক অনুমোদন ও LoI পাওয়ার পর্যায়ে মোট পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক রয়েছে।

LoI পেলেই কি ব্যাংক চালু করা যাবে?

না। লেটার অব ইনটেন্ট বা LoI চূড়ান্ত ব্যাংকিং লাইসেন্স নয়। এটি মূলত শর্তসাপেক্ষ প্রাথমিক সম্মতি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত আইন, বিধিবিধান, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, মূলধনসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। সব শর্ত পূরণ এবং পরবর্তী অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল ব্যাংকের বিশেষত্ব কী?

প্রচলিত ব্যাংকের মতো দেশজুড়ে শাখা স্থাপন না করে মূলত ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়াই ডিজিটাল ব্যাংকের মূল বৈশিষ্ট্য। হিসাব খোলা, অর্থ স্থানান্তর, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনসহ ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিধান রয়েছে।

এর ফলে গ্রাহকদের ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছে এ ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হিসেবে সাশ্রয়ী ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ ও ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

১২টি আবেদনের মধ্য থেকে বাছাই

এবারের ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর উদ্যোগ। যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি নতুন প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।

আগের ডিজিটাল ব্যাংক উদ্যোগের কী হলো?

বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রথম উদ্যোগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি-কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আওতায় আসে এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে নতুন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এবারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন গতি পেল। বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, টেলিকম ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা এই খাতে যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সেবা আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গ্রাহকদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে?

ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে শাখাবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবার বড় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকের শাখা পরিচালনার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নতুন ব্যাংকগুলো বাস্তবে কবে থেকে গ্রাহকসেবা শুরু করবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। LoI পাওয়ার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্ত পূরণ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

সার্বিকভাবে, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছে। বিকাশ, রবি, বাংলালিংক-ভিওন, স্কয়ার ও ভুটানের ডিকে ব্যাংকের মতো বড় ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে এসব প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে কার্যক্রম শুরু করতে পারে এবং গ্রাহকদের জন্য কতটা সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী সেবা দিতে পারে—তার ওপর।

নোট: আপনার দেওয়া তথ্যে চারটি ডিজিটাল ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এর সঙ্গে আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে LoI দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। তাই মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে LoI/প্রাথমিক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *