সরকারি চাকরিতে ৫ বছরের বেশি নয়, লক্ষ্য হোক উদ্যোক্তা হওয়া: ড. ইউনূস
সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদী কর্মকাল এবং গতানুগতিক চাকরির মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি একই চাকরিতে থাকা উচিত নয়। এতে মানুষের মাইন্ডসেট বা মানসিকতা স্থায়ী হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কর্মসংস্থান নিয়ে এক বৈপ্লবিক দর্শনের কথা।
১. প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতা ও সংস্কার
ড. ইউনূস মনে করেন, সময়ের প্রয়োজনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে খোলনলচে বদলে ফেলা দরকার। তিনি বলেন:
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও কর্মীরা পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে বসে থাকেন, যা প্রগতির অন্তরায়।
২. চাকরি কি আধুনিক দাসপ্রথা?
তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এক সাহসী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাটি ভুল। এটি আদতে এক ধরণের দাসপ্রথার শামিল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণদের মেধা কেবল অন্যের অধীনে কাজ করার জন্য নয়, বরং নিজে নতুন কিছু করার জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সহায়ক ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেন তিনি।
৩. জুলাই আন্দোলনের প্রভাব ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তুলনা করে ড. ইউনূস বলেন:
“রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল, এই ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তেমন বিপ্লব ঘটাবে। জুলাই আন্দোলনের কারিগররাই একদিন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাঠামোগত সংস্কার এবং তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ডিজিটাল অবকাঠামো সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদের সারসংক্ষেপ
| মূল বিষয় | ড. ইউনূসের বক্তব্য/সিদ্ধান্ত |
| সরকারি চাকরি | ৫ বছরের বেশি নয়; সৃজনশীলতা রক্ষায় পরিবর্তন জরুরি। |
| প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন | প্রতি ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো উচিত। |
| উদ্যোক্তা বনাম চাকরি | চাকরিকে ‘দাসপ্রথা’ হিসেবে অভিহিত করে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান। |
| জুলাই আন্দোলন | এই আন্দোলনের তরুণরাই হবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নেতা। |
ড. ইউনূসের এই বক্তব্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং মেয়াদের প্রচলিত প্রথার ওপর এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি দেশের বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে ‘চাকরি খোঁজা’র বদলে ‘চাকরি দাতা’ হওয়ার মানসিকতা তৈরিতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



