এইমাত্র পাওয়া

ছয় মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, যুক্ত হলেন ৬ নতুন মুখ

সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের সম্প্রসারণ ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এর মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন, আর একজন নতুন প্রতিমন্ত্রী আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পাওয়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নতুন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

রাষ্ট্রপতির শপথের পরই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতিই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারেক রহমান সরকারের ছয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে মন্ত্রণালয় পুনর্বণ্টন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটল। সরকার গঠনের সময় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। এরপর কয়েকটি পদ শূন্য হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে মন্ত্রিসভায় পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন তৈরি হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবদুল মঈন খান

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার পর শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির প্রবীণ নেতা আবদুল মঈন খানকে।

নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এর আগে তিনি খালেদা জিয়ার সরকারের সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে তথ্য ও বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে প্রশাসনিক ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে ভোলা-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পার্থের মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকে মন্ত্রিসভায় জোটের প্রতিনিধিত্ব আরও দৃশ্যমান করার পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাঁর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং সাবেক এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। পার্থ নিজেও এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন। ফলে মন্ত্রণালয়টির নেতৃত্বে সরাসরি পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাচিং প্রু জেরী

দীর্ঘদিন খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করলে মন্ত্রণালয়টির মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়। এবার সাচিং প্রু জেরীকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ করা হলো।

সাচিং প্রু জেরীর রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি অঞ্চলের ভূমি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি এবং পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো এই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে সাচিং প্রু জেরীর নিয়োগকে পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত

নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পদে। তিনি আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন।

অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নেতৃত্বের পদমর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন, অন্যদিকে আফরোজা খানম রিতা নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে তিনি জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হলেন হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবির এবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এই মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে একই মন্ত্রণালয়ে এখন দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, একটি মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে অসুবিধা নেই।

হুমায়ুন কবির আগে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর নতুন দায়িত্বকে তাঁর আগের কাজেরই প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

শামীম কায়সার লিংকনেরও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি এর আগে ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন।

এক নজরে নতুন দায়িত্ব

ব্যক্তিনতুন পদ/দায়িত্ব
আবদুল মঈন খানস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী
আন্দালিভ রহমান পার্থতথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
সাচিং প্রু জেরীপার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী
হুমায়ুন কবিরপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনধর্ম প্রতিমন্ত্রী

এ ছাড়া আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কেন এই রদবদল গুরুত্বপূর্ণ

তারেক রহমান সরকারের এই প্রথম বড় মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। প্রথমত, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতা আবদুল মঈন খানকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকা দলের নেতা আন্দালিভ রহমান পার্থকে পূর্ণমন্ত্রী করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলের মন্ত্রণালয়ে ওই এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের মতো পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করা একজন উপদেষ্টাকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে নতুন হিসাব

বিডিনিউজ২৪-এর হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। পরে কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হওয়া এবং দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগসহ কয়েকটি পরিবর্তনের কারণে শূন্যতা তৈরি হয়। নতুন ছয়জনকে যুক্ত করে সরকারের মন্ত্রিসভা-সংশ্লিষ্ট সদস্যসংখ্যা ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন—তাঁদের পাঁচজন মন্ত্রী ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্নভাবে গণনা দেখা যেতে পারে—কারণ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারী উপদেষ্টাদের আলাদাভাবে গণনা করা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ছয় সদস্য যুক্ত হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রিসভা কাঠামোতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হয়েছে।

সামনে কী

মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের পর এখন মূল নজর থাকবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কর্মতৎপরতার দিকে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, পররাষ্ট্র এবং ধর্ম—এই ছয়টি মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বের কারণে নীতিগত অগ্রাধিকার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই হবে পরবর্তী আলোচনার বিষয়।

সব মিলিয়ে, সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় তারেক রহমানের এই প্রথম বড় মন্ত্রিসভা রদবদল শুধু ছয়জন নতুন মুখ যুক্ত করার ঘটনা নয়; বরং শূন্য পদ পূরণ, দায়িত্বের পুনর্বণ্টন, জোটের প্রতিনিধিত্ব, অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আনা এবং কয়েকজন বর্তমান দায়িত্বশীলকে পদোন্নতি দেওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ। শুক্রবারের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টিম কাঠামোর একটি নতুন রূপ সামনে এলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *