এইমাত্র পাওয়া

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি, গেজেট পাঠাল অর্থ বিভাগ

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গেজেটের কপি পাঠানো হয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এখন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

বুধবার অর্থ বিভাগের উপসচিব সারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গেজেটের কপি পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এসআরও নং ৩৪৮-আইন/২০২৬-এর গেজেটের উল্লেখ রয়েছে।

গেজেটের পর এবার বাস্তবায়নের পালা

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন কাঠামো সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর করতে হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা গেজেটের কপি ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানোকে তাই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মূল গেজেট অনুসরণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন ও হিসাব বিভাগকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে হবে।

কোন আদেশের আওতায় আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো?

১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এসআরও নং ৩৪৮-আইন/২০২৬-এর আওতায় স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই গেজেটের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গেজেটের বিধান অনুসরণ করতে হবে। ফলে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বর্তমান বেতন, পদ, গ্রেড এবং প্রযোজ্য অন্যান্য চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এ উদ্যোগের প্রভাব পড়বে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী অফিস আদেশের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশেষ করে নতুন বেতন নির্ধারণ কখন শুরু হবে, কীভাবে বেতন ফিক্সেশন করা হবে এবং কার্যকর তারিখ থেকে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয় কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে অর্থ বিভাগের ৭ অক্টোবরের চিঠিকে সরাসরি বেতন পরিশোধের তারিখ ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি গেজেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছে দিয়ে বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন কাঠামো

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

নতুন কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ব্যবস্থাকে সংশোধিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করা। এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন এবং কার্যকর তারিখ থেকে প্রাপ্য অর্থ সমন্বয়ের বিষয়ও রয়েছে।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট গেজেটের বিধান অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

কর্মীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

অর্থ বিভাগের চিঠি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সামনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অফিস আদেশ জারি করবে।

দ্বিতীয়ত, কর্মীদের বর্তমান বেতন ও গ্রেডের ভিত্তিতে নতুন মূল বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয়ত, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে যে আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবে, তা কীভাবে হিসাব করা হবে।

চতুর্থত, নতুন বেতন নির্ধারণের পর নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।

এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা ও গেজেটের বিধানের ভিত্তিতে হবে।

বেতন ফিক্সেশন নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে বেতন ফিক্সেশন। স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এখন জানতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কী পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে।

সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে কর্মীর বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড, চাকরির মেয়াদ এবং প্রযোজ্য বিধান বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হয়। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ্ধতিতে হিসাব হবে, তা সংশ্লিষ্ট গেজেট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন হিসাব বা অনানুষ্ঠানিক তালিকার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জারি করা অফিস আদেশকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

বকেয়া পাওনার বিষয়েও নজর কর্মীদের

নতুন পে-স্কেলের কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ হওয়ায় কার্যকর তারিখ থেকে বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়ে প্রাপ্য অর্থের বিষয়টি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বকেয়া কীভাবে হিসাব হবে, কোন সময়ের জন্য কত টাকা প্রাপ্য হবে এবং কখন তা পরিশোধ করা হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক চিঠির পর প্রতিষ্ঠানগুলো গেজেট বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় হিসাব ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে পারে। এরপর কর্মীদের নতুন বেতন নির্ধারণ ও আর্থিক সমন্বয়ের বিষয়টি ধাপে ধাপে সামনে আসবে।

কেন এই চিঠিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে?

১৭ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের পর ৭ অক্টোবর সেটির কপি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশ থেকে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ সম্পন্ন হলো।

এতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

  • নতুন বেতন কাঠামোর সরকারি ভিত্তি স্পষ্ট হয়েছে।
  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গেজেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে।
  • প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বেতন বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফলে এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল অপেক্ষা থাকবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন আদেশের জন্য।

এখন কী হতে পারে?

অর্থ বিভাগের চিঠির পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে গেজেট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে। এরপর কর্মীদের পদ, গ্রেড ও বর্তমান বেতনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই, নতুন বেতন নির্ধারণ এবং হিসাব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হতে পারে।

তবে কোন প্রতিষ্ঠানে ঠিক কোন তারিখে বেতন ফিক্সেশন হবে বা বকেয়া কখন দেওয়া হবে—এ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলাদা আদেশ ছাড়া তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান, মানবসম্পদ/প্রশাসন শাখা এবং হিসাব বিভাগের পরবর্তী অফিস আদেশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সামনে আরও যেসব নির্দেশনা আসতে পারে

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পৃথক নির্দেশনা আসতে পারে। সেখানে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য যাচাই, বেতন ফিক্সেশনের সময়সূচি এবং বকেয়া সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বেতন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা পৃথক হিসাব ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সেটি সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ বাস্তবায়নে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ বিভাগের ৭ অক্টোবরের চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি। ১৭ সেপ্টেম্বরের এসআরও নং ৩৪৮-আইন/২০২৬-এর গেজেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর মাধ্যমে এখন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এখন কর্মীদের দৃষ্টি থাকবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে। নতুন বেতন ফিক্সেশন, বেতন প্রদানের সময়সূচি এবং কার্যকর তারিখ থেকে প্রাপ্য অর্থের সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই সামনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

তবে চূড়ান্ত হিসাব ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিস আদেশই হবে মূল ভিত্তি। তাই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বেতন বা বকেয়ার হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *