রমজান ঘিরে ‘কর্পোরেট মাফিয়া’ চক্র: সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ, বাজারে কৃত্রিম হাহাকার
পবিত্র রমজান মাস দোরগোড়ায়। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজান উপলক্ষে পণ্যের দাম কমানোর হিড়িক পড়ে, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির নীল নকশা করছে একদল অসাধু আমদানিকারক ও কর্পোরেট সিন্ডিকেট।
সাগরে আটকে আছে ৬০০ জাহাজ: কৌশল নাকি ষড়যন্ত্র?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো রমজানের আবশ্যিক পণ্যবাহী প্রায় ৬০০টি জাহাজ দেশের সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য খালাস বিলম্বিত করছেন। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী করাই এই ‘অপেক্ষা’র মূল উদ্দেশ্য। যখন বাজারে হাহাকার তীব্র হবে, ঠিক তখনই চড়া দামে পণ্য ছেড়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার উৎসবে মাতবে এই চক্র।
বিশ্বের চিত্র বনাম বাংলাদেশ: আকাশ-পাতাল পার্থক্য
রমজানের আগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে বাংলাদেশের তুলনা করলে এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে ওঠে:
যুক্তরাজ্য: অমুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ওখানকার জায়ান্ট সুপারশপ Tesco বা Asda প্রতি বছর ‘Ramadan Essentials’ সেকশনে চাল, ডাল ও তেলের ওপর বিশাল ডিসকাউন্ট দেয়। মুসলিম কমিউনিটির প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা মুনাফা কমিয়ে দেয়।
মধ্যপ্রাচ্য: দুবাইয়ের Carrefour বা Lulu Hypermarket রমজানের আগে প্রায় ৫০০০ পণ্যের ওপর ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত মূল্যছাড় দেয়, যা ‘Ramadan Giving’ নামে পরিচিত।
বাংলাদেশ: ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে রমজান এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুত করে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার প্রতিযোগিতায় নামে।
| দেশের নাম | প্রতিষ্ঠানের নাম | রমজানে পদক্ষেপ |
| যুক্তরাজ্য | Tesco, Asda | বিশাল ডিসকাউন্ট ও এসেনশিয়াল কিট |
| ইউএই (দুবাই) | Carrefour, Lulu | ৫০-৭০% মূল্যছাড় (Ramadan Giving) |
| বাংলাদেশ | কর্পোরেট সিন্ডিকেট | পণ্য মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরি |
ভোক্তাদের নীরবতা ও সচেতনতার অভাব
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হলেও, দেশের ভেতরে যারা ‘রক্ত চুষে’ খাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জোরালো জনমত গড়ে উঠছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভোক্তা হিসেবে আমরা এই কর্পোরেট মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হবো এবং তাদের পণ্য বর্জনের সাহস না দেখাবো, ততক্ষণ এই অশুভ চক্র আমাদের ইমোশন নিয়ে খেলা করবে।
“রমজান মাসে ইবাদতের চেয়ে সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট কাটাই যেন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অসাধু আমদানিকারকদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।” — ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোক্তা।
পবিত্র মাসকে পুঁজি করে যারা হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই আওয়াজ তোলা প্রয়োজন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই ‘কর্পোরেট মাফিয়া’দের হাত থেকে বাজারকে মুক্ত করতে।



