এনসিপির ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ, শিক্ষা-প্রযুক্তি ও ঋণের সুদে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় খাতগুলোতে ব্যয়ের একটি বিকল্প রূপরেখা তুলে ধরে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও প্রযুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধ, শিল্প ও প্রণোদনা, স্বাস্থ্য, পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ছায়া বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি ১০০ টাকা সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪.৬ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য। এছাড়া শিল্প ও প্রণোদনা খাতে ১১ টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮.৬ টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৬.১ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক প্রস্তাবিত ব্যয়
এনসিপির ছায়া বাজেট অনুযায়ী প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের সম্ভাব্য বণ্টন হবে—
- শিক্ষা ও প্রযুক্তি: ১৪.৬ টাকা
- ঋণের সুদ পরিশোধ: ১৩.০ টাকা
- শিল্প ও প্রণোদনা: ১১.০ টাকা
- পরিবহন ও যোগাযোগ: ৮.৬ টাকা
- স্বাস্থ্য: ৬.১ টাকা
- স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন: ৫.৫ টাকা
- প্রতিরক্ষা: ৪.৭ টাকা
- সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ: ৪.৭ টাকা
- কৃষি: ৩.৬ টাকা
- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: ২.৯ টাকা
শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে জোর
ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই খাতে বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ঋণের সুদ পরিশোধে বড় চাপ
বাজেটের একটি বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। মোট ব্যয়ের ১৩ শতাংশ সুদ পরিশোধে চলে গেলে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে তুলনামূলক কম অর্থ অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
শিল্প ও অবকাঠামো খাতে গুরুত্ব
শিল্প ও প্রণোদনা খাতে ১১ শতাংশ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮.৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার লক্ষ্যও প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা
স্বাস্থ্য খাতে ৬.১ শতাংশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪.৭ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করার জন্য এ খাতগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ছায়া বাজেট মূলত একটি নীতিগত প্রস্তাবনা, যা সরকারি বাজেটের বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। শিক্ষা, শিল্প, অবকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধের উচ্চ ব্যয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রও প্রকাশ করে।
ছায়া বাজেট বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকলেও এটি সরকারের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমত তৈরি, নীতিগত আলোচনা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক চিন্তাধারাকে সামনে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


