এইমাত্র পাওয়া

পেটে অতিরিক্ত বাতাস বা গ্যাস ২০২৬ । সাধারণ সমস্যা নাকি গভীর কোনো রোগের লক্ষণ?

বর্তমানে পেটে গ্যাস বা বাতাস হওয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই একে কেবল ‘গ্যাস্ট্রিক’ মনে করে নিয়মিত এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেয়ে চেপে রাখেন। কিন্তু চিকিৎসক ডা. রাকিব খান (ইউনানি মেডিসিন ও আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ) এর মতে, পেটে অতিরিক্ত বাতাস হওয়া বা পেট ফেঁপে থাকা কেবল সাধারণ বদহজম নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সমস্যার সংকেত হতে পারে।

ছবিতে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, পেটে বাতাস হওয়ার প্রধান কারণ ও করণীয়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করুন

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অন্ত্রে মল জমে থাকে, যা থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গ্যাস তৈরি করে। ফলে পেট সবসময় ফোলা বা বাতাস ভর্তি মনে হয়। তাই ফাইবারযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি খেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা জরুরি।

২. আইবিএস (IBS) ও মানসিক স্বাস্থ্য

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস-এর রোগীদের অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের সংযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা সরাসরি অন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে পেটে গ্যাস ও অস্বস্তি তৈরি করে। এক্ষেত্রে মানসিকভাবে শান্ত ও দৃঢ় থাকা চিকিৎসার অন্যতম অংশ।

৩. প্যানক্রিয়েটিক এনজাইমের অভাব

আমাদের অগ্ন্যাশয় (Pancreas) খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করে। যদি পর্যাপ্ত এনজাইম না থাকে, তবে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না এবং পেটে বাতাস তৈরি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম এনজাইম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৪. পিত্তথলি না থাকলে চর্বি বর্জন

যাদের পিত্তথলি (Gallbladder) অপারেশন করে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাদের চর্বিযুক্ত খাবার হজম করতে সমস্যা হয়। অতিরিক্ত তেল-চর্বি খেলে তাদের পেটে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা তীব্র হয়। তাই ডায়েট থেকে চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. পাকস্থলীর এসিডের ভারসাম্য

অনেকের ধারণা এসিড বাড়লেই কেবল গ্যাস হয়। কিন্তু পাকস্থলীতে পরিপাককারী এসিডের পরিমাণ কমে গেলেও খাবার ঠিকমতো ভাঙে না, যা থেকে পেট ফাঁপা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মৃদু এসিডিক সাপ্লিমেন্ট বা খাবারের প্রয়োজন হতে পারে।

৬. লিভারের রোগ

লিভার শরীরের প্রধান বিপাকীয় অঙ্গ। লিভারে কোনো জটিলতা থাকলে বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পেটে বাতাস হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই পেটে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস থাকলে লিভারের পরীক্ষা করানো জরুরি।


বিশেষ সতর্কবার্তা: পেটে বাতাস হওয়া মানেই কেবল গ্যাসের ওষুধ খাওয়া নয়। মূল কারণটি চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *