ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বিভ্রান্তি? জেনে নিন জটিল সব শব্দের সহজ অর্থ
অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। সেখানে ব্যবহৃত ছোট ছোট শব্দ যেমন— ‘ac’, ‘pc’ বা ‘tid’ বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খান সাধারণ রোগীরা। ওষুধের সঠিক ডোজ এবং নিয়ম না জানায় অনেক সময় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিও থেকে যায়। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে ইন্টারনেটে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে প্রেসক্রিপশন বোঝার একটি বিশেষ সহায়িকা।
চিকিৎসকরা মূলত সময় বাঁচাতে ল্যাটিন ও ইংরেজি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করেন। প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওষুধের ধরন এবং সেবনের নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
ওষুধ সেবনের সঠিক সময় (Time of Administration)
প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নামের পাশে থাকা কিছু সংকেত বলে দেয় ওষুধটি কখন খেতে হবে:
ac (Ante Cibum): খাবার খাওয়ার আগে।
pc (Post Cibum): খাবার খাওয়ার পরে।
int (Intra): খাবারের মাঝে।
hs (Hora Somni): রাতে ঘুমানোর আগে।
sos (Si Opus Sit): যখন প্রয়োজন (জরুরি ভিত্তিতে)।
দৈনিক কতবার সেবন করবেন? (Frequency of Dose)
ওষুধ দিনে কয়বার খেতে হবে তা বুঝতে নিচের সংকেতগুলো খেয়াল করুন:
od (Once Daily): দিনে একবার।
bd/bid (Bis in Die): দিনে দুইবার।
td/tid (Ter in Die): দিনে তিনবার।
qid (Quater in Die): দিনে চারবার।
ওষুধের ধরন ও প্রয়োগ পদ্ধতি
আপনার ওষুধটি ট্যাবলেট নাকি সিরাপ, তা চিহ্নিত করা হয় এভাবে:
tab: ট্যাবলেট।
Cap: ক্যাপসুল।
Syp: সিরাপ।
Inj: ইনজেকশন।
IV (Intravenous): শিরার মাধ্যমে দেওয়া ইনজেকশন।
IM (Intramuscular): মাংসপেশিতে দেওয়া ইনজেকশন।
oint: মলম বা অয়েন্টমেন্ট।
gtt (Guttae): ড্রপ বা ফোঁটা।
শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার সংকেত
প্রেসক্রিপশনের উপরের অংশে ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা বোঝাতে কিছু শব্দ ব্যবহার করেন:
Hx (History): রোগের ইতিহাস।
Sx (Symptoms): রোগের লক্ষণসমূহ।
Dx (Diagnosis): রোগ নির্ণয়।
Bp (Blood Pressure): রক্তচাপ।
HR/PR: হৃদস্পন্দনের হার।
BSF: খালি পেটে সুগার পরীক্ষা।
CXR: বুকের এক্স-রে।
usg: আল্ট্রাসোনোগ্রাফি।
বিশেষ সতর্কতা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসক্রিপশনের এই সংকেতগুলো প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে নিয়মটি পুনরায় নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ইনজেকশন বা দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের ক্ষেত্রে কোনো রকম সংশয় থাকলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই তথ্যগুলো শেয়ার করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে ভুল ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।


