এইমাত্র পাওয়া

১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ: কঠোর অবস্থানে সরকার

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে কোনো ধরনের তামাক ও নিকোটিন জাতীয় পণ্য বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে নির্দেশনাটি ফুটে উঠেছে, তা মূলত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া তামাকবিরোধী অভিযানের একটি অংশ।

সরকারের মূল পদক্ষেপসমূহ:

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোর ওপর আলোকপাত করেন:

  • বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ: প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, এমনকি সিনেমা ও নাটকেও তামাকের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) নামে তামাক কোম্পানির চতুর প্রচারণা চালানোর সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে।

  • পাবলিক প্লেসে ধূমপান: গণপরিবহন ও বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • আইনের কঠোর প্রয়োগ: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

তামাকের ভয়াবহতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব:

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় জনস্বাস্থ্যের ওপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে মৃত্যুবরণ করে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তামাক ও নিকোটিনকে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, পরিবেশের ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়াসহ তামাকের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সরকার একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর এবং এ কাজে জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *