হেবা, দানপত্র ও নামজারিতে নতুন কর-শর্ত বাতিলের দাবি, আইন উপদেষ্টার কাছে আবেদন
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে হেবা, দানের ঘোষণা, দানপত্র, বণ্টননামা এবং মিউটেশন (নামজারি) সংক্রান্ত নতুন কর ও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক (PSR) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে বাতিলের দাবি জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী এ বি এম আজিজুল হক আজিজ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে হেবা ঘোষণা, দানের ঘোষণা দলিল এবং দানপত্র দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ১২৫ ধারা অনুযায়ী উৎস কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং মিউটেশন (নামজারি) সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক (PSR) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
আবেদনে বলা হয়, হেবা, দানপত্র ও ওসিয়তনামা মূলত পারিবারিক, সামাজিক এবং মানবিক প্রয়োজনে সম্পাদিত হয়ে থাকে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং সেবাগ্রহীতারা বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং মিউটেশন বা নামজারির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে PSR বাধ্যতামূলক করা হলে অনেক নাগরিকের জন্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং যাদের নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য এ ধরনের বিধান বাস্তবায়ন নতুন ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
আবেদনকারী সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রস্তাবিত এসব বিধান পুনর্বিবেচনা করে বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে হেবা, দানপত্র ও ওসিয়তনামা দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উৎস কর আরোপ না করে পূর্বের নিয়ম বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জনগণের স্বার্থে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তিও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঠানো আবেদনে বিষয়টি মানবিক ও জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আবেদনটির নিবেদক এ বি এম আজিজুল হক আজিজ। তিনি ঢাকার মিরপুরের সেকশন-১০ এলাকার বাসিন্দা। প্রস্তাবিত বাজেটের এসব বিধান কার্যকর হওয়ার আগে জনমত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।


