স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়ম

সুস্থ হার্টের চাবিকাঠি: কোলেস্টেরলের মাত্রা রাখুন হাতের মুঠোয়

আধুনিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। আর এই হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা। সম্প্রতি চিকিৎসকরা সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে কোলেস্টেরলের একটি আদর্শ মান নির্ধারণ করেছেন, যা মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

কোলেস্টেরলের ‘রিপোর্ট কার্ড’: যা আপনার জানা প্রয়োজন

রক্তে কোলেস্টেরল মানেই খারাপ নয়, বরং এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। সুস্থ থাকতে হলে এই প্রতিটি উপাদানের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী আদর্শ মাত্রাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

উপাদানের নাম আদর্শ মাত্রা (mg/dL) মন্তব্য
মোট কোলেস্টেরল ২০০-এর নিচে এটি সামগ্রিক সুস্থতার নির্দেশক।
LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) ১০০ – ১২৯ এর নিচে এটি ধমনীতে চর্বি জমায়। হার্টের ঝুঁকি থাকলে ১০০-এর নিচে থাকা ভালো।
HDL (ভালো কোলেস্টেরল) ৬০ বা তার বেশি এটি শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে।
ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০-এর নিচে এটি রক্তে বিদ্যমান এক ধরণের ফ্যাট বা চর্বি।

ভালো বনাম খারাপ কোলেস্টেরল: পার্থক্য বুঝুন

চিকিৎসকদের মতে, LDL (Low-Density Lipoprotein)-কে বলা হয় ‘খারাপ কোলেস্টেরল’। এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধমনীর দেয়ালে জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

অন্যদিকে, HDL (High-Density Lipoprotein) হলো ‘ভালো কোলেস্টেরল’। এটি রক্ত থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে লিভারে নিয়ে যায় এবং শরীরকে হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই HDL-এর মাত্রা ৬০ mg/dL বা তার বেশি হওয়াকে হৃদরোগের কবজ হিসেবে ধরা হয়।

ট্রাইগ্লিসারাইড কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে থাকা এক ধরণের চর্বি। অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এবং কায়িক শ্রমের অভাবের ফলে এর মাত্রা বেড়ে যায়। যদি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ mg/dL-এর উপরে চলে যায়, তবে তা হৃদপিণ্ডের জন্য অশনি সংকেত।


বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

যদিও সাধারণ মানদণ্ড উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে বয়স, লিঙ্গ এবং বিদ্যমান শারীরিক অবস্থার (যেমন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ) ওপর ভিত্তি করে এই মাত্রার তারতম্য হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য LDL-এর মাত্রা ১০০-এর অনেক নিচে রাখা বাঞ্ছনীয়।

সতর্কবার্তা: নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করুন এবং কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামই পারে আপনার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *