প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের বড় পদক্ষেপ: গঠন হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিটির গঠন ও নেতৃত্ব
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
- শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব মাহুদী আমিন।
- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদ।
- এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন।
কমিটির প্রধান কাজ ও লক্ষ্য (কার্যপরিধি)
গেজেট অনুযায়ী, এই কমিটি মূলত ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ডিজাইন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছ পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। কমিটির উল্লেখযোগ্য কার্যপরিধি হলো: ১. পাইলট প্রকল্প: প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করে সেখানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২. ডিজিটাল এমআইএস: সুবিধাভোগীদের সঠিক ডাটাবেজ তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের (NHD) মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করে একটি ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) তৈরির সুপারিশ করা। ৩. বিদ্যমান কর্মসূচি সমন্বয়: নারীদের জন্য চলমান অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিকে এই কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা। ৪. দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল: আগামী ঈদুল ফিতরের পূর্বেই কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুর্নীতি রোধে এবং ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনবে।


