এইমাত্র পাওয়াস্বাস্থ্য রক্ষার নিয়ম

টিজি কমাতে করণী ২০২৬ । টিজি ১০০০ থাকলে যা খাওয়া যাবে না?

ট্রাইগ্লিসারাইড (TG) লেভেল ১০০০ mg/dL হওয়া মানে আপনার শরীর অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে (Severe Hypertriglyceridemia)। এই অবস্থায় অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিস হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ২০২৬ সালের আধুনিক স্বাস্থ্য গাইডলাইন অনুযায়ী, আপনার দ্রুত একজন কার্ডিওলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে ডায়েটের মাধ্যমে টিজি কমাতে নিচের খাবারগুলো পুরোপুরি বর্জন করা জরুরি:

১. চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার (সবচেয়ে ক্ষতিকর)

অতিরিক্ত চিনি লিভারে গিয়ে সরাসরি ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়।

  • মিষ্টি পানীয়: কোক, পেপসি, এনার্জি ড্রিংকস এবং প্যাকেটজাত ফলের রস।

  • মিষ্টি: রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপি বা যেকোনো চিনিযুক্ত ডেজার্ট।

  • সাদা চিনি: চা বা কফিতে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

২. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (সাদা শর্করা)

সাদা শর্করা রক্তে ইনসুলিন বাড়িয়ে টিজি লেভেল বাড়িয়ে দেয়।

  • সাদা চাল ও ময়দা: সাদা ভাতের পরিমাণ কমিয়ে দিন। ময়দার তৈরি পরোটা, নান রুটি, পাস্তা বা হোয়াইট ব্রেড এড়িয়ে চলুন।

  • বেকারি আইটেম: বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি এবং কুকিজ।

৩. সম্পৃক্ত ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট (Saturated & Trans Fat)

  • চর্বিযুক্ত মাংস: গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং পোল্ট্রি মুরগির চামড়া।

  • প্রসেসড মিট: সসেজ, নাগেট বা সালামি।

  • ভাজা পোড়া: ডালডা বা পোড়া তেলে ভাজা সিঙ্গারা, সমুচা, চপ বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

৪. উচ্চ শর্করাযুক্ত সবজি ও ফল

টিজি ১০০০ থাকলে কিছু প্রাকৃতিক শর্করাও সীমিত করতে হয়:

  • ফল: আম, কলা, কাঁঠাল বা খেজুর (অতিরিক্ত মিষ্টি ফল) সীমিত করুন।

  • সবজি: আলু এবং মিষ্টি আলুর পরিমাণ কমিয়ে দিন।

৫. অ্যালকোহল ও ধূমপান

অ্যালকোহল ট্রাইগ্লিসারাইড দ্রুত বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।


আপনার জন্য জরুরি পরামর্শ (২০২৬ গাইডলাইন):

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চমাত্রার ফিশ অয়েল বা ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।

  • শাকসবজি: প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং তন্তুযুক্ত (Fiber) খাবার খান।

  • হাঁটাচলা: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন।

সতর্কবার্তা: যেহেতু আপনার টিজি লেভেল ১০০০, তাই শুধুমাত্র খাবার নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়। প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ (যেমন- Fibrates বা Statins) শুরু করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *