তাওহীদ হৃদয়ের ২৪২: সিলেট টেস্টে যত রেকর্ড, চতুর্থ দিনে ম্যাচের অবস্থা
সিলেট টেস্টে অপরাজিত ২৪২ রানে মুশফিকের রেকর্ড ভাঙলেন তাওহীদ হৃদয়, মারলেন ১১ ছক্কা। চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নবিরতিতে ৯৮ রানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সিলেট, ৮ নভেম্বর ২০২৬: তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রান এখন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। শনিবার সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ৩৫৯ বলের এই ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিমের আট বছরের পুরোনো রেকর্ড (অপরাজিত ২১৯)। এই ইনিংসের ওপর ভর করে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৮৬ রান তোলে এবং প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায়। তবে রোববার চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে দ্রুত রান তুলে ম্যাচে আবার এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মধ্যাহ্নবিরতিতে তাদের সংগ্রহ ৩৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২৮, লিড ৯৮ রানের।
পটভূমি: খাদের কিনারা থেকে লিড
দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এমনিতেই পিছিয়ে। মিরপুরে প্রথম টেস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৮ উইকেটে। সিলেটে ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে আগে ব্যাট করে সফরকারীরা ৩৫৬ রান তোলে। হাসান মাহমুদ সেখানে নেন ৬ উইকেট। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৮; হৃদয় তখন অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে।
তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকের সঙ্গে হৃদয়ের ৭৩ রানের জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। এরপর নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে, এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৪। ফলোঅন এড়ানো গেলেও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তখন স্পষ্ট। গোড়ালির চোটে ওপেনার সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে না পারায় বাংলাদেশ কার্যত এক উইকেট কম নিয়ে খেলছিল।
লোয়ার অর্ডারকে নিয়ে হৃদয়ের লড়াই
এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। তাইজুল এক প্রান্ত আগলে রাখেন, অন্য প্রান্তে আক্রমণ চালিয়ে যান হৃদয়। নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ হয় আরও ৮৫ রান। তাসকিন ১২ রানে জেইডেন সিলসের বলে আউট হলে ১১১.৫ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ তিন উইকেটে ২০২ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
হৃদয় সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৭১ বলে, আর ডাবল সেঞ্চুরিতে ৩০৪ বলে। সেঞ্চুরির পর তাঁর ব্যাটিংয়ের গতি অনেক বেড়ে যায়। দিনের শুরুতে ২৯ রানে থাকা এই ব্যাটার দিন শেষে অপরাজিত ছিলেন ২৪২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার ওয়ারিকান ৪১ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সফরকারী দলের কোচ ফিল সিমন্সও ইনিংসটিকে অসাধারণ বলে প্রশংসা করেছেন।
তথ্য-উপাত্ত: হৃদয়ের ইনিংসে যত রেকর্ড
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ইনিংস | ২৪২* (৩৫৯ বল, ২২ চার, ১১ ছক্কা) |
| বাংলাদেশের টেস্ট সর্বোচ্চ | আগের রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের ২১৯*, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১৮ |
| টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি | চতুর্থ বাংলাদেশি; আগে করেছেন মুশফিকুর, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান |
| প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল | বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দিলেন |
| এক ইনিংসে ছক্কা | ১১টি, বাংলাদেশের রেকর্ড (আগে তামিমের ৭টি); বিশ্বরেকর্ড ১২টি থেকে একটি কম |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে | এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশির প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি |
| সিলেটের মাঠ | এই ভেন্যুতে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি |
| বড় জুটি | অষ্টম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ১১৭, নবম উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে ৮৫ |
| প্রথম ইনিংস | ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬, বাংলাদেশ ৩৮৬ (লিড ৩০) |
| চতুর্থ দিন, মধ্যাহ্নবিরতি | ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২৮/২ (৩৪ ওভার), লিড ৯৮ |
চতুর্থ দিন: ক্যারিবীয়দের পাল্টা জবাব
রোববার সকালে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেশনেই তারা যোগ করে ১২১ রান। উদ্বোধনী জুটিতে ব্র্যান্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা বাংলাদেশের লিড মুছে দেন। কিং ৬১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। ডা সিলভা ৩৬ রানে তাইজুলের বলে এলবিডব্লিউ হন। বিরতির সময় কাভেম হজ ৩০ ও কেভিন উইকহ্যাম শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিশ্লেষণ: ম্যাচের সমীকরণ কোন দিকে
হাতে আছে দেড় দিনের কিছু বেশি সময়। সিরিজে সমতা আনতে বাংলাদেশকে এই টেস্ট জিততেই হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে দ্রুত রান তুলছে, তাতে বোঝা যায় তারা দ্রুত বড় লিড নিয়ে শেষ দিনে বাংলাদেশকে ব্যাট করাতে চায়। চতুর্থ দিনের বাকি সময়ে তাইজুল ও মিরাজ দ্রুত উইকেট তুলতে পারলে লক্ষ্য নাগালের মধ্যে থাকবে। না হলে শেষ দিনে চাপ নিয়ে ব্যাট করতে হবে স্বাগতিকদের, যেখানে সাদমানের চোট আরেকটি দুশ্চিন্তা।
মাঠের ফল যা-ই হোক, হৃদয়ের এই ইনিংস দীর্ঘ পরিসরে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। এত দিন সাদা বলের ক্রিকেটেই তাঁর পরিচিতি বেশি ছিল। লাল বলের ক্রিকেটেও তিনি যে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে দলকে টানতে পারেন, সিলেটের ইনিংস সেটিই দেখাল।
প্রশ্নোত্তর: যা জানা দরকার
বাংলাদেশের টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান কার?
তাওহীদ হৃদয়ের, অপরাজিত ২৪২। আগে রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২১৯।
সিরিজের অবস্থা কী?
মিরপুর টেস্ট ৮ উইকেটে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিলেট টেস্ট চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত।
হৃদয় কয়টি ছক্কা মেরেছেন?
১১টি, যা এক টেস্ট ইনিংসে কোনো বাংলাদেশির সবচেয়ে বেশি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো, ডন (এএফপি), মাইখেল, দৈনিক আদিন, আল জাজিরা।


মন্তব্য (০)