এইমাত্র পাওয়া

ওয়ারিশ সনদপত্র লেখার নিয়ম ২০২৬: আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন আবেদনের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি, জমির নামজারি, ব্যাংকে জমা অর্থ, পেনশনসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ওয়ারিশ সনদপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ওয়ারিশ সনদপত্র কীভাবে লিখতে হয়, কার কাছে আবেদন করতে হয়, কী কী কাগজপত্র লাগে এবং অনলাইনে আবেদন করা যায় কি না—এসব বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আবেদন করতে গিয়ে অনেকে ভুল তথ্য দেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে ভুলে যান কিংবা প্রকৃত কোনো ওয়ারিশের নাম বাদ পড়ে যায়।

ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করতে এখানে নমুনা আবেদনপত্র, সনদের প্রয়োজনীয় তথ্য, কাগজপত্রের তালিকা এবং অনলাইন আবেদনের নিয়ম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ওয়ারিশ সনদপত্র কী এবং কেন প্রয়োজন?

ওয়ারিশ সনদপত্র বা ওয়ারিশান সনদ হলো কোনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত উত্তরাধিকারীদের নাম ও সম্পর্ক প্রত্যয়নকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। সাধারণত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যাচাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে এ সনদ দেওয়া হয়।

ওয়ারিশ সনদপত্র বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—

  • মৃত ব্যক্তির জমি বা সম্পত্তির নামজারি করতে।
  • উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিসংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে।
  • ব্যাংক হিসাবের অর্থ বা অন্যান্য আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী।
  • পারিবারিক পেনশন, আনুতোষিক বা অন্যান্য পাওনা দাবি করতে, যেখানে এ ধরনের সনদ চাওয়া হয়।
  • বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উত্তরাধিকারীর পরিচয় প্রমাণের প্রয়োজনে।

তবে সব ক্ষেত্রে শুধু ওয়ারিশ সনদপত্রই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী মৃত্যু নিবন্ধন সনদ, পরিচয়পত্র, আদালতের আদেশ, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত অন্য নথি বা অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।

ওয়ারিশ সনদপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?

বাংলাদেশে সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করা যায়।

ইউনিয়ন পরিষদ: গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা সাধারণত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা নির্ধারিত দপ্তরে আবেদন করেন। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সদস্যের সুপারিশ ও স্থানীয়ভাবে তথ্য যাচাই করা হয়।

পৌরসভা: পৌর এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট পৌরসভার নির্ধারিত শাখা বা ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

সিটি করপোরেশন: সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করপোরেশনের নির্ধারিত দপ্তর বা অনলাইন সেবা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফরম, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সনদ প্রদানের সময়সীমা জেনে নেওয়া ভালো। এলাকাভেদে এসব শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে।

ওয়ারিশ সনদপত্র লেখার নিয়ম: নমুনা আবেদনপত্র

ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র লিখতে হলে সাধারণত বরাবর, বিষয়, মৃত ব্যক্তির পরিচয়, আবেদনকারীর পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করতে হয়। নিচে একটি সাধারণ আবেদনপত্রের নমুনা দেওয়া হলো।

বরাবর

চেয়ারম্যান/মেয়র/নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ
………………………………………………..
ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন
উপজেলা/থানা: ………………………………
জেলা: …………………………………………

বিষয়: ওয়ারিশ সনদপত্র প্রদানের জন্য আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমার ……………………………… (পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী), নাম: ………………………………, পিতা/স্বামীর নাম: ………………………………, গ্রাম/মহল্লা: ………………………………, ওয়ার্ড নম্বর: …………, ডাকঘর: ………………………………, উপজেলা/থানা: ………………………………, জেলা: ……………………………… গত …………………… তারিখে মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম, পরিচয় এবং মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক সংযুক্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।

অতএব, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে উল্লিখিত মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের নামে একটি ওয়ারিশ সনদপত্র প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

বিনীত নিবেদক,

আবেদনকারীর নাম: ………………………………
মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক: ………………………………
জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন নম্বর: ………………………………
ঠিকানা: ………………………………
মোবাইল নম্বর: ………………………………
তারিখ: ………………………………
স্বাক্ষর/টিপসই: ………………………………

সংযুক্তি:
১. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন সনদের অনুলিপি।
২. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের অনুলিপি।
৩. ওয়ারিশদের পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের অনুলিপি।
৪. কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সাধারণ আবেদনপত্রের নমুনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফরম থাকলে সেই ফরম ব্যবহার করতে হবে।

ওয়ারিশ সনদে ওয়ারিশদের নাম ও সম্পর্ক যেভাবে লিখবেন

আবেদনপত্রের সঙ্গে ওয়ারিশদের নাম ও সম্পর্কের একটি তালিকা সংযুক্ত করা যেতে পারে। তালিকায় প্রত্যেক ওয়ারিশের পূর্ণ নাম, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

ক্রমিকওয়ারিশের নামমৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক
১মো. সামসুর রহমানপুত্র
২মো. কামরুজ্জামানপুত্র
৩মো. মনিরুজ্জামানপুত্র
৪মোছা. হালিমা খাতুনকন্যা
৫মোছা. হামিদা খাতুনকন্যা
৬মোছা. হাছিনা খাতুনকন্যা

গুরুত্বপূর্ণ: উপরের তালিকাটি শুধু নাম ও সম্পর্ক লেখার নমুনা। এটি কোনো বাস্তব পরিবারের যাচাইকৃত ওয়ারিশ তালিকা নয়। প্রকৃত সনদে মৃত ব্যক্তির সব প্রাসঙ্গিক ওয়ারিশকে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী বা স্বামী, বাবা-মা কিংবা অন্য কোনো উত্তরাধিকারী থাকলে তাঁদের বাদ দেওয়া যাবে না।

ওয়ারিশ সনদপত্রের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

এলাকাভেদে কাগজপত্রের তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়—

১. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন সনদ।
২. মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, পাওয়া গেলে।
৩. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ।
৪. ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের অনুলিপি।
৫. মৃত ব্যক্তি ও ওয়ারিশদের ঠিকানা এবং পারিবারিক সম্পর্কের তথ্য।
৬. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত আবেদনপত্র।
৭. প্রয়োজন হলে ওয়ার্ড সদস্যের সুপারিশ, সাক্ষীর তথ্য বা স্থানীয় তদন্তের কাগজপত্র।
৮. নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণ, যদি প্রযোজ্য হয়।

কিছু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ফরমে ওয়ারিশদের জন্মতারিখ, পরিচয়পত্র নম্বর, আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং অতিরিক্ত সংযুক্তির তথ্যও চাওয়া হয়। https://musapur.uniontax.gov.bd/application/%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A6%A6

অনলাইনে ওয়ারিশ সনদের আবেদন করার নিয়ম

কিছু ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদের আবেদন করা যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার অনলাইন সেবা চালু থাকলে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।

ধাপ ১: নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করুন।

প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার সরকারি ডিজিটাল সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা সম্পর্কে জানতে unionservices.gov.bd দেখতে পারেন।

ধাপ ২: ওয়ারিশ সনদের সেবা নির্বাচন করুন।

পোর্টালে ‘ওয়ারিশান সনদ’ বা ‘উত্তরাধিকারী সনদ’ নামে সেবা থাকলে সেটি নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: মৃত ব্যক্তির তথ্য পূরণ করুন।

মৃত ব্যক্তির নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা, ওয়ার্ড নম্বর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য নির্ভুলভাবে লিখুন।

ধাপ ৪: আবেদনকারীর তথ্য দিন।

আবেদনকারীর নাম, পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ চাওয়া তথ্য পূরণ করুন।

ধাপ ৫: ওয়ারিশদের তালিকা যুক্ত করুন।

প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম, সম্পর্ক, জন্মতারিখ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করুন। কেউ যেন বাদ না পড়েন, তা ভালোভাবে যাচাই করুন।

ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।

পোর্টালে যেসব নথি চাওয়া হবে, সেগুলো নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করুন।

ধাপ ৭: আবেদন জমা ও যাচাই সম্পন্ন করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর বা রসিদ সংরক্ষণ করুন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই ও অনুমোদনের পর সনদ সংগ্রহ করুন।

মনে রাখতে হবে, সব এলাকায় একই অনলাইন ব্যবস্থা চালু নেই। অনলাইনে আবেদন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

ওয়ারিশ সনদ পেতে কত টাকা লাগে এবং কত দিন সময় লাগে?

ওয়ারিশ সনদের ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে সারা দেশের জন্য একক অঙ্ক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সনদ বা সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত ফি ও সময়সীমা উল্লেখ থাকতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কিছু ইউনিয়ন পরিষদের প্রকাশিত নাগরিক সনদে ওয়ারিশ সনদের জন্য সাত কার্যদিবস এবং নির্ধারিত ফি উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি সব ইউনিয়ন বা পৌরসভার জন্য প্রযোজ্য নয়। https://sukhairrajapursouthup.sunamganj.gov.bd/pages/static-pages/696cbb87c4774958d7babcdd

তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করুন:

  • আবেদন ফি কত এবং কীভাবে পরিশোধ করতে হবে?
  • সনদ পেতে সম্ভাব্য কত কার্যদিবস লাগবে?
  • আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো অতিরিক্ত যাচাই বা নথি প্রয়োজন হবে কি না?

জমির নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মৃত ব্যক্তির জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি করার সময় ওয়ারিশ সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে। তবে সনদে শুধু নাম উল্লেখ থাকলেই জমির মালিকানা বা প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়ে যায় না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থার সঙ্গে অনলাইনে উত্তরাধিকার সনদ যাচাইয়ের সংযোগ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ওয়ারিশসংক্রান্ত তথ্য যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো। https://prottoyon.gov.bd/notice/17/crc32

এ কারণে জমির নামজারির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী সনদের সত্যতা, ওয়ারিশদের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যাচাই করা উচিত।

ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরির সময় যে ৭টি ভুল এড়িয়ে চলবেন

১. কোনো ওয়ারিশের নাম বাদ দেওয়া: সব প্রকৃত ও প্রাসঙ্গিক ওয়ারিশের তথ্য যাচাই করুন।

২. নামের বানানে ভুল করা: জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে নাম মিলিয়ে লিখুন।

৩. মৃত্যুর তারিখ ভুল লেখা: মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য অনুসরণ করুন।

৪. সম্পর্ক ভুল উল্লেখ করা: প্রত্যেকের প্রকৃত সম্পর্ক সঠিকভাবে লিখুন।

৫. ঠিকানা অসম্পূর্ণ রাখা: গ্রাম বা মহল্লা, ওয়ার্ড, ডাকঘর, উপজেলা/থানা এবং জেলা সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।

৬. ভুল বা অস্পষ্ট নথি জমা দেওয়া: আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র যাচাই করুন।

৭. অনুমোদন ছাড়াই নমুনাকে সরকারি সনদ মনে করা: অনলাইনে পাওয়া নমুনা বা নিজে লেখা কাগজ সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ওয়ারিশ সনদ হিসেবে গণ্য হয় না।

ওয়ারিশ সনদপত্র ও উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ কি একই বিষয়?

না। ওয়ারিশ সনদে সাধারণত মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং ওয়ারিশদের নাম ও সম্পর্ক প্রত্যয়ন করা হয়। কিন্তু প্রত্যেক উত্তরাধিকারী কতটুকু সম্পত্তি পাবেন, তা নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য আইন, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সম্পত্তির ধরন বিবেচনা করতে হয়।

এ কারণে ওয়ারিশ সনদকে উত্তরাধিকারীর পরিচয়সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে দেখতে হবে; সব ক্ষেত্রে এটিকে চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের দলিল হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথা

ওয়ারিশ সনদপত্র লেখার সময় সঠিক তথ্য, প্রকৃত ওয়ারিশদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত নিয়ম জেনে নিন। এরপর আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিন এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই শেষে সনদ সংগ্রহ করুন।

সঠিকভাবে আবেদন করলে জমির নামজারি, ব্যাংকসংক্রান্ত দাবি কিংবা অন্যান্য উত্তরাধিকারসংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা সহজ হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট কাজে সনদ ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কী কী কাগজপত্র চায়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *