অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা, ৪৪ জেলার প্রতিবেদন চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনায় গৃহীত ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্টদের জবাব ও পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) মো. ফরহাদ আলম স্বাক্ষরিত এক তাগিদপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিটির তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
আগের নির্দেশের পরও অধিকাংশ জেলার প্রতিবেদন আসেনি
তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালনা ও মূল্যায়ন বিভাগের আওতায় পরিচালিত দৈনিক শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য এর আগে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
আগের নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা থাকলেও, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে দেশের মাত্র ৫টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন পাওয়া জেলাগুলো হলো—
- সিরাজগঞ্জ
- ঠাকুরগাঁও
- নীলফামারী
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- রাজশাহী
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত ৪৪টি জেলার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুপস্থিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা
অধিদপ্তরের তাগিদপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে প্রচলিত বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শুধু অনুপস্থিত শিক্ষকের বিষয়টি নথিভুক্ত করাই নয়, অনুপস্থিতির সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে গৃহীত কার্যক্রমের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে কারণ ব্যাখ্যা, জবাব গ্রহণ এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
৭ কর্মদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন
তাগিদপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার অননুমোদিত অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্তসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের বরাবর পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রস্তুত করে অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমেও পাঠাতে বলা হয়েছে।
৪৪ জেলার প্রতিবেদন না আসায় তাগিদ
চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র পাঁচটি জেলা থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার বিপরীতে ৪৪টি জেলার প্রতিবেদন এখনো অধিদপ্তরে পৌঁছেনি।
ফলে এসব জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অননুমোদিত অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা শিক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দৈনিক শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে অননুমোদিত অনুপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন তাগিদপত্রের মাধ্যমে অধিদপ্তর মূলত দুইটি বিষয় নিশ্চিত করতে চেয়েছে—অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সেই ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে অধিদপ্তরকে নিয়মিত অবহিত করা।
ফলে সংশ্লিষ্ট ৪৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে এখন দ্রুত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষক অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে—সেটিও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।


